পথ শিশুদের পাশে ‘গ্রেস এণ্ড গ্লোরি অব গড’

0
1558

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,কলকাতাঃ- পুজোর সময় সাধ থাকলেও আর্থিক কারণে সবার নতুন পোশাক কেনার সাধ্য থাকেনা। তখন সাধ পূরণের জন্য কল্পনার ‘সান্তা ক্লজ’ এর মত কিছু মানুষ তাদের মাঝে আবির্ভূত হন দেবদূত রূপে। এরকমই ‘সান্তা ক্লজ’ হলেন রত্না-রেশমা জুটি।

মাদার টেরিজার স্নেহধন্যা ত্রিপুরার মেয়ে রত্না ‘মারিনা’ ঘোষ খুব অল্প বয়সে সেবা কাজ শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে মাদার টেরিজার সংস্পর্শে আসার পর সেই সেবার কাজ আরও গতি পায়। পরে তার সেবার সঙ্গী হয়ে ওঠেন কন্যা রেশমা। সে এযুগের অত্যন্ত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র, সিরিয়াল তথা যাত্রা শিল্পী তথা সুপরিচিত সঙ্গীত শিল্পী। ১৯৮৮ সালে মানুষের সেবার লক্ষ্যে রত্না ‘মারিনা’ দেবী নিজের হাতে গড়ে তোলেন ‘গ্রেস এণ্ড গ্লোরি অব গড’ চ্যারিটেবল সোসাইটি। গৃহ শিক্ষকতা করে যেটুকু উপার্জন করতেন তারই একটা অংশ মানুষের সেবায় ব্যয় করে তার পথ চলা শুরু হয় । মায়ের আদর্শে বেড়ে ওঠা রেশমাও তার আয়ের একটা বড় অংশ মানুষের সেবার কাজেই বিলিয়ে দেন।

তারই অঙ্গ হিসাবে পুজো প্রাক্কালে অসহায় শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এই মা-মেয়ে জুটি আক্ষরিক অর্থেই কার্যত গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ কলকাতা ও ইস্টার্ন বাইপাসের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ালেন। তারপর প্রায় দেড় শতাধিক বিভিন্ন বয়সী পথ শিশুর হাতে তুলে দেন তাদের প্রয়োজনীয় নতুন পোশাক। শুধু তাই নয় ‘স্টার’ সুলভ স্বাভাবিক অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে ‘সুন্দরী’ রেশমা পথ শিশুদের কোলে তুলে আদরও করেন। প্রসঙ্গত সেবার জগতে মা-মেয়ের এই জুটি প্রচারের অন্তরালে থেকে গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে দুস্থ মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

রেশমা দেবীর বক্তব্য – পুজোর সময় যখন প্যাণ্ডলে প্যাণ্ডেলে আলোর ঝলকানিতে চোখ ঝলসে যাবে, থাকবে ‘থিম’এর ছড়াছড়ি, আধুনিক ডিজাইনের পোশাক পড়া মানুষের ভিড় তখন একদল পথশিশু অসহায় ভাবে ঘুরে বেড়াবে এটা ঠিক মেনে নিতে পারিনি। তাই নিজেদের সীমিত আয় দিয়ে যতটা সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সামান্য অর্থ নিয়ে শুরু করলেও যেভাবে সহৃদয় মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাতে আমরা সবার কাছে কৃতজ্ঞ। পুজো কমিটি গুলির কাছে আমাদের অনুরোধ- দয়া করে আপনারা সামান্য খরচ কমিয়ে ঐসব অসহায় পথ শিশুদের পাশে দাঁড়ান। তাহলে পুজো হয়তো আরও আনন্দমুখর হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here