চমক সৃষ্টি করার এবং প্রচার পাবার লক্ষ্যে মহাযজ্ঞ করে বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস নেতা

0
929

অমল মাজি , দুর্গাপুর :- এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত গোটা দেশ | সেই আতঙ্কের মধ্যে থেকেও মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে এবং সচেতনতা গড়ে তুলতে নিরলস কর্মসূচি গ্রহণ করছেন সারা রাজ্য তথা দুর্গাপুরের প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতারা | রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা ভাইরাস রুখতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন | করোনা রুখতে এবং সতর্কতার পদক্ষেপ হিসাবে দেশজুড়ে জনতা কারফিউয়ের আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আবেদন জানাচ্ছেন , এখন কোথাও জমায়েত না করার এবং লোক সমাগম আটকাতে বিভিন্ন মন্দির ,মসজিদ ,গুরুদুয়ারা সহ বিভিন্ন ধর্মস্থান আপাতত বন্ধ রাখার | ধর্ম-কর্ম ধর্মস্থানের ভেতর হোক ,নিজেদের মধ্যে হোক |সেখানে বাইরের লোক বা ভক্তরা যেন না ঢোকে | এই ব্যাপারে রাজ্যে সর্বপ্রথম পদক্ষেপ নেয় বেলুড়মঠ রামকৃষ্ণ মিশন | সেই পথ অনুসরণ করে রাজ্যের সমস্ত মন্দির এবং ধর্মস্থান গুলি | মুখ্যমন্ত্রী বলেন ,আগে মানুষ বাঁচুক তারপর ধর্ম-কর্ম হবে |

অর্থাৎ দেশের সর্বত্র , বিভিন্ন প্রান্তে, যখন এক জায়গায় বহু মানুষের সমাগম রুখতে সবরকম প্রচার চালানো হচ্ছে ঠিক তখন দুর্গাপুরে উল্টো ছবি | এক কংগ্রেস নেতা চমক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পাওয়ার লক্ষ্যে ধর্মকে কাজে লাগলেন |
হ্যা, এমনই ঘটেছে দুর্গাপুরে | বলা নেই কওযা নেই হটাৎই মহাযজ্ঞের সিদ্ধান্ত নিলেন |এমনই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের | এখানকার কোকওভেন থানার অন্তর্গত বীরভানপুর অগ্রণী ক্লাবের উদ্যোগে একটি মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয় | ওই ক্লাবের সভাপতি ডিপিএলের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা উমাপদ দাসের ইচ্ছা এবং উদ্দ্যোগে এই মহাযজ্ঞ হয়েছে বলে জানা গেছে | উমাপদবাবুর বক্তব্য ,করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ভগবানের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে এমন মহাযজ্ঞ করা হয়েছে | সেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয় |
উমাপদ দাস যা করেছেন তা তার ব্যক্তিগত বিষয় কংগ্রেস এটাকে সমর্থন করে না , করছে না, জানিয়ে দিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার কংগ্রেস সভাপতি তরুণ রায় | তরুণবাবু বলেন , এইভাবে যজ্ঞ করে ভাইরাস আটকানো যায় না | মেডিকেল সায়েন্স সেকথা বলছে না | এইজন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে | তিনি বলেন , প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্রের নির্দেশে আমরা পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি সংগঠিত করছি |সেই জায়গায় বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরণে যজ্ঞ করে মানুষ সমাগম করা পুরোপুরি আইন বিরোধী কাজ | এটা আমরা সমর্থন করি না | আমরা মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি ফ্রিতে মাস্কস এবং স্যানিটাইজার বিলি করার প্রস্তুতি নিয়েছি |

এদিকে অভিযোগ উঠেছে ,এই ঘটনায় দুর্গাপুর প্রশাসন নীরব কেন ? কোকওভেন থানার ওসি সন্দীপ দাস জানান , প্রথমদিকে তার কাছে কোনও খবর ছিল না | তবে ওখানেj
যজ্ঞ করার জন্য পুলিশ পারমিশন নেওয়া হয়নি | তিনি স্বীকার করেন এই মুহূর্তে এমন লোক সমাগম করা আইন বিরোধী |

এখন সাধারণ মানুষের অভিযোগ , ওই অনুষ্ঠানে এতো লোকের মধ্যে করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি যদি থেকে থাকে এবং তার মাধ্যমে অন্যান্যরা আক্রান্ত হয় তাহলে তার দায় কে নেবে ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here