বাসের চাকা গড়াতেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবিতে গরম দক্ষিণবঙ্গ পরিবহনের চালকেরা

0
756

বিশেষ সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সরকারি নির্দেশে বাসের চাকা গড়াতেই ড্রাইভারদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণে। বাসের চালকদের দাবি, অবিলম্বে তাদের কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, চালকদের যুক্তি গত এক মাস ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে ফেরত পাঠাতে গিয়ে লাগাতার বাস চালিয়ে আসছেন তারা। হাজার হাজার শ্রমিকের সংস্পর্শে এসেছেন তারা, কিন্তু যাত্রী পরিবহনের আগে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাটাই করেনি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকাল থেকে সীমিত যাত্রী নিয়ে পরিষেবা শুরু করল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। শুরুর দিনই গড়াল ১৬৫ টি বাসের চাকা। পাশাপাশি মুম্বাই, দিল্লি থেকে নতুন করে পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই যে সব ট্রেন আসবে, সেই শ্রমিকদের গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিতে তৈরি রাখা হয়েছে আরো 400 বাস। কিন্তু সমস্যা বাড়ছে সেইসব বাসের চালকদের নিয়ে। বুধবার আসানসোল, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বাস চালকদের একাংশ অবিলম্বে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানান। বাসচালক গৌরীশংকর রায় বলেন “হাজার হাজার শ্রমিক বইলাম, মার খেলাম শ্রমিকদের হাতে। আবার শুরু হল যাত্রী পরিবহন। আমাদের জন্য শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর মাস্ক। স্বাস্থ্য পরীক্ষাই করালোনা কর্তৃপক্ষ”। বাস চালকদের দাবির সমর্থনে এগিয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠন আই.এন.টি.টি.ইউ.সি। বুধবার সংগঠনের সম্পাদক নূর মহম্মদ মল্লিক বলেন “বাস চালক, পরিচালকদের দাবী ন্যায্য। আমাদের এম.ডি’র কাছে আমারও আমারও স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছি”।

এদিকে বিগত চার দিনে দফায় দফায় ১৮ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছে নিগাম। ওরা সকলেই আধিকারিক। এদের পরীক্ষা করানোর কারণ সংস্থার চেয়ারম্যান সম্প্রতি কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে ভর্তি আগে চেয়ারম্যান দুর্গাপুরে এসে দুদিন ছিলেন। এক দিনের জন্য যান বাঁকুড়া শহরেও। দুর্গাপুরে ও বাঁকুড়ায় বৈঠক করেন দফায় দফায়। তাই তার সংস্পর্শে আসা আধিকারিকদের দুর্গাপুর ও বর্ধমানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। মঙ্গলবারই লালারস সংগ্রহ করা হয় বাঁকুড়ার ওন্দা ও রানিবাঁধ এর বিধায়কের। ওরাও চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকে ছিলেন।

আধিকারিক ও কর্তাব্যক্তিদের দফায় দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে, অথচ যে সব বাস চালকরা ঝূঁকি নিয়ে বাস চালাচ্ছেন দিনের পর দিন, বাদ পড়ছেন তারাই- এই অভিযোগে সবর চালকেরা। পুরো বিষয়টিতে নিগমের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর গোদালা কিরণ কুমার বলেন “সরকারি নির্দেশে যেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের বাসে চাপানো হচ্ছে, তেমনি আমাদের সব বাসের চালক ও পরিচালন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত সকলের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন “নির্দিষ্ট সময়ে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে”।

এদিকে যাত্রী পরিষেবার পয়লা দিন অবশ্য সরকারি বাসে যাত্রী ছিল হাতে গোনা। মোট .১৬৫ টি বাসের মধ্যে ২০ টি বাস মাত্র দুজন করে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here