দুর্গাপুরের ‘হলদিয়া স্টিলস ‘ অক্সিজেন পাচারের সিন্ডিকেট হাতে নাতে ধরল জি.এস.টি আধিকারিকরা

0
1072

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ- নথিভূক্ত ইস্পাত কারখানার অন্দরেই এবার অক্সিজেন কালোবাজারির সিন্ডিকেট। সোমবার বিকালে বেসরকারি সেই ইস্পাত কারখানায় হানা দিয়ে দুর্গাপুরের আঞ্চলিক জি.এস.টি কমিশনার ও তার সহযোগী আধিকারিকরা এদিন হাতেনাতে ধরলেন চক্রের চাঁইদের । সরকারি নিয়ম মোতাবেক হলদিয়া স্টিলস নামে বেসরকারি ওই সংস্থার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা রুজুর পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়েছে। শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।

কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে শিল্পাঞ্চল জুড়েই অক্সিজেনের কালোবাজারি বেড়ে চলেছে লাগামছাড়া মাত্রায়। পাড়ায় পাড়ায় রোগীদের পরিবারগুলির কাছে অক্সিজেনের যোগান দেওয়ার নামে চড়া দামের অফার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ফড়েরাও । যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের জাল শহর দুর্গাপুরের স্টেশন বাজার, সিটি সেন্টার, বিধান নগর, বেনাচিতির পাশাপাশি শহর লাগোয়া কয়েকটি গ্রামেও শাখা বিস্তার করেছে। অক্সিজেন সংকট মোকাবেলায় ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারখানার কাজে অক্সিজেন সরবরাহ নামিয়ে এনে হাসপাতাল, নার্সিংহোম গুলিতে সরবরাহ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু, সেই নির্দেশকে বুড়ো আগুল দেখিয়ে দুর্গাপুরের রাতুড়িয়া- অঙ্গঁদপুর শিল্প তালুকের বেসরকারি লৌহ ইস্পাত কারখানা হলদিয়া স্টিলস সোমবারই ‘শাকম্বরী ওভারসিজ ট্রেডার’ নামে একটি সংস্থাকে তাদের কারখানার ভেতর থেকে মৌখিক আবদারের ভিত্তিতে একটি লরিতে বোঝাই করে সড়কপথে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার পাচার করছিল। একটি পদস্থ সূত্র জানায়, বেআইনিভাবে ৫৬০ বর্গমিটার পরিমাপের তরল অক্সিজেন চুপি চুপি সরবরাহ হচ্ছিল যখন, তখনই বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে হলদিয়া স্টিলস এর লোডিং পয়েন্টে হানা দেন জি.এস.টি বিভাগের পদস্থ শুল্ক- কর্তারা। বাজেয়াপ্ত করেন লরি বোঝাই সিলিন্ডার গুলি। বাজেয়াপ্ত করা একটি চালানে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র মৌখিক অর্ডারের ভিত্তিতে এই মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীদের কাছে মহার্ঘ্য অক্সিজেন চুপিচুপি পাচার করা তো হচ্ছিলই , আবার বর্গমিটার পিছু ১৪.২৯ টাকা দরে পাচার করা অক্সিজেনের দাম মেটানোর জন্য পাকা রশিদও তৈরি করা হয়েছিল।

যেটুকু জানা গেছে, হলদিয়া স্টিলস গত কয়েকদিন ধরেই সরকারকে ফাঁকি দিয়ে অক্সিজেনের কালোবাজারিতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। রাতুড়িয়া- অঙ্গঁদপুর এর অন্যান্য কারখানাগুলি কে গোড়ায় ১২০ টাকার জায়গায় সিলিন্ডার পিছু ১২০০ টাকায় অক্সিজেন সরবরাহ করেছিল। সোমবার সেই দাম পৌঁছায় ২০০০ টাকা সিলিন্ডার পিছু। কিন্তু , দাম উল্লেখ করা হচ্ছিল সিলিন্ডার পিছু ১০০ টাকা ।

দুর্গাপুরের শুল্ক আধিকারিকদের কাছে সোমবারই সেই মর্মে অভিযোগ দায়ের হলে, কারখানায় হানা দেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। দুর্গাপুরের আঞ্চলিক জি.এস.টি কমিশনার অরুণ প্রসাদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরেই আমাদের পক্ষ থেকে ওই কারখানায় হানা দেওয়া হয়। বিষয়টি ধরা পড়ে হাতে নাতে। আমরা নির্দিষ্ট ধারায় মোকদ্দমা রুজু করেছি ওই কারখানার বিরুদ্ধে । ” হলদিয়া স্টিলস এই অতিমারির দিন দৈনিক গড়ে ৭০০ সিলিন্ডার সরকারকে ফাঁকি দিয়ে কারখানাগুলীকে চড়া দামে বিক্রি করছিল বলে বিশেষ সূত্রটি জানায়।

হলদিয়া স্টিলসের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের আরো কয়েকটি কারখানাও এবার সরকারের নজরে। তদন্তকারীদের চোখ রয়েছে কিছু অসাধু অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, নার্সিংহোম ও ফড়েদের সিন্ডিকেটের ওপর । দুর্গাপুর পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, বিধাননগর ও বেনাচিতিতে কিছু অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার অতিমারির সময় অক্সিজেন কালোবাজারিতে জড়িয়ে পড়েছে । সমাজের অন্য পেশার কয়েকজন তাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে কালোবাজারিতে সাহায্য করছে বলেও খবর মিলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here