অমোঘ মৃত্যুকে এড়াতে কী করবেন? এখনই পড়ুন

0
563

সংগীতা চ্যাটার্জী (চৌধুরী),বহরমপুরঃ- আজ আর কোন তত্ত্ব কথা নয় চলুন একটা গল্প বলি-

একবার অনেকগুলো ইঁদুর এক জায়গাই জড়ো হয়ে একটি মিটিং করছিল। মিটিং এর বিষয় টি ছিলো, তাদের বহু জনের ঘনঘন প্রাণহানি হচ্ছে বিড়ালের আক্রমণে,তাই কী করে বিড়ালের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তখন বড় ইঁদুর বলতে লাগলো,ভাইসকল তোমারা তো জানো আমাদের মধ্যে অনেকই নিহত হয়েছে কালো বিড়ালের আক্রমণে। সেই কালো বিড়াল আমাদের এক এক করে খেয়ে ফেলছে তাই এর থেকে বাঁচার জন্য চলো আমরা একটি যুক্তি করি। অন্যত্র চলে যেতে হবে,যেখানে বিড়াল নেই। তবে সে জায়গাটা কোথায় তা আমাদের খুঁজে বার করতে হবে।

তখন ইঁদুরদের মধ্যে একজন বলল, “হ্যাঁ আছে, এক গাঁয়ের দক্ষিণ দিকে বেড়াকলমীর জঙ্গল আছে,সেখানে আমরা বাস করতে পারি।” অন্যজন বলল,“ খবরদার! ওখানে আমি গতকাল সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম, সেখানে একটি বড় গোসাপ আমাকে তাড়া করেছিল। আমি কোনক্রমে প্রাণ নিয়ে বেঁচে এসেছি। তার চেয়ে পূর্বদিকে একটি বটগাছ আছে, সেই গাছের উপর কোটার আছে। সেখানে বিড়াল যেতে পারবেনা, গোসাপ নেই। অতএব ,সেখানেই থাকা ভালো।” অন্যজন এই কথা শুনে বললো,“ খবরদার, ওখানে দিনে কাক আর রাতে পেঁচা আমাদের পুরো বংশ ধ্বংস করে দেবে, ওখানে গেলে আর রক্ষে থাকবে না। তার চেয়ে পশ্চিম দিকে একটা খড়ের পালা দেখা যাচ্ছে, সেখানেই থাকা যাক।” অন্যজন এই কথা শুনে বললো, “ না না, ওটাও বিপদজনক। তার চেয়ে বরং বাইরে না বেরিয়ে যেখানে আছি সেখানেই আমরা বিরাট গর্ত করে থাকি। অসংখ্য সুড়ঙ্গ করতে হবে। অতি সাবধানে শস্যধান গর্ত গুলোতে জমা করতে হবে। একটি ছোট ছিদ্র রাখতে হবে, যাতে বিড়াল আসছে, কি, না দেখা যাবে।” যেই ভাবা সেই কাজ! তারা সুড়ঙ্গ করতে লাগলো। বহু মাটি গর্তের মুখ দিয়ে উপরে এসে ফেলতে লাগলো। মাটি দেখে বিড়াল আনন্দিত মনে সেখানে বসে থাকলো। যেই একটি ইঁদুর মাটি ফেলতে আসলো, অমনি বিড়ালটি তাকে খপ করে ধরে মেরে ফেলল। এই দুর্ঘটনার ফলে ইঁদুররা নিস্তব্ধ হয়ে সারা দিন গর্তের মধ্যেই পড়ে থাকলো। তখন একটি ইঁদুর বলতে লাগলো, “এইবার আমাদের কোন খাবার নেই, বেরোবার রাস্তাও নেই, উপবাস থেকেই মরতে হবে।”

একটি পুরনো ইঁদুর ছিল, সে বহু আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। সে এইসময় মারা গেলো আর মৃত্যুর সময় সে একটি কথা সবাইকে বলতে লাগলো-“ তোমরা শোনো, যেখানে যত বন্দোবস্ত করো না কেন, সব জায়গায় মৃত্যু হানা দিচ্ছে। জঙ্গলে সাপ, গর্তে বেজি, গাছে কাক, গুদাম ঘরে মানুষ, বেড়াল,পেঁচা, শেয়াল,কুকুর। ওগুলো আমাদের জন্মের আগে থেকেই আছে, আর যদি কেউ আমাদের আক্রমণ নাও করে তবে রোগব্যাধিই আমাদের মেরে ফেলবে। এ জগতের ধারাই এরকম। অতএব এই জন্মই ভালো নয়।” – অর্থাৎ এই জগৎ এর সব জায়গাতেই মৃত্যু রয়েছে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মৃত্যু নেই।

হ্যাঁ বন্ধুরা, এই সংসার মাত্রই দুঃখের, আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে বেড়ায়, ভাবি আমরা দুঃখ থেকে নিস্তার পাবো, কিন্তু পাইনা আর একসময় আমাদের মৃত্যু হয়! কি অদ্ভুত দেখুন যখন কারোর খুব আপনজন শোক তাপ বা কষ্টের জন্য মারা যায় তখন সে ভগবানকে দোষারোপ করেন, কিন্তু যতক্ষণ অবধি সে নীরোগ অবস্থায় থাকে, সে সুস্থ থাকে, ততক্ষণ সময়ের মধ্যে একবারও সে ভগবানের কথা স্মরণ করে না, নিজের সুস্থতার জন্য ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই না। বন্ধু, মৃত্যু সর্বত্রই রয়েছে। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মৃত্যু নেই, আমরা যে বেঁচে আছি সেটাই বড়ো আশ্চর্যের বিষয়!

তাই প্রত্যেকটা মুহূর্তে আমাদের অভাব আমাদের না পাওয়া গুলোর জন্য ভগবানের কাছে অভিযোগ না করে আজ একটিবারের জন্য চলুন আমরা ভগবানকে স্মরণ করে ধন্যবাদ জানাই, তিনি যে আমাদের সুস্থ সবল রেখেছেন, তিনি যে আমাদের নীরোগ রেখেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। দেখুন যখন একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় বা বাস দুর্ঘটনায় প্রচুর মানুষ মারা যান, তখন সেই ট্রেন দুর্ঘটনা/বাস দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ভয়ে শিউরে উঠে! প্রত্যেকেই আমরা মনে মনে ভাবি ভাগ্যিস আমি ছিলাম না ঐ বাসে/ ট্রেনে। কিন্তু যখন আমরা কোন ভ্রমণ সেরে নির্বিঘ্নে ট্রেনে, বাসে করে বাড়ি ফিরে আসি তখন আমরা কতবার সুস্থ শরীর নিয়ে বাড়িতে আবার ফিরে আসার জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ জানাই? এই যে আমরা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছি কে জানে যে এই বেরোনোই আমাদের শেষ বেরোনো হবে না? তবু আমরা একবারও ভগবানের স্মরণ করি কি? যাত্রা শুরুর আগে বা‌ যাত্রা শুরুর পর? যখন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে আসি তখন একবারও ভগবানকে ধন্যবাদ জানায় কি?

যদি মনে হয়, তো আজকের পর থেকে যখনই বাড়ির বাইরে বেরোবেন তার আগে একটিবার ভগবানকে স্মরণ করে বেরোবেন শুধু তার নাম স্মরণ করবেন “ হরে কৃষ্ণ”। কিছু চাইতে হবে না। যখন নির্বিঘ্নে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবেন তখন ভগবানকে প্রণাম করে বলবেন, “ হে প্রভু তোমার অনন্ত কৃপা , কিছু না চাইতে তুমি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছো। তোমার কৃপায় আমি সুস্থ ভাবে আমার বাড়িতে/ কাজের জায়গায় ফিরে আসতে পেরেছি। তোমার চরণে আমার শতকোটি প্রণাম। তুমি দেখো আমি যেন সব সময় তোমার চরণে ভক্তি রাখতে পারি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here