eaibanglai
Homeএই বাংলায়হোলিকা দহন ও দোলপূর্ণিমার মাহাত্ম্য কী জানুন?

হোলিকা দহন ও দোলপূর্ণিমার মাহাত্ম্য কী জানুন?

সঙ্গীতা চ্যাটার্জী (চৌধুরী),বহরমপুরঃ– আজ ৭ ই মার্চ ২০২৩ দোল পূর্ণিমা। এই দোল পূর্ণিমার কী মাহাত্ম্য জানেন? আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে বৃন্দাবন লীলায় ব্রজবাসীরা দোল খেলায় মেতে উঠেছিলেন। ব্রজবাসীগণ শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানী চরণে আবির রং দিয়ে দোল উদযাপন করেন। সেই সময় ছিল ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথি। সেই বছর বৃন্দাবনে এত বড় উৎসব হয়েছিল যে ব্রজবাসীরা কেউই সেই উৎসবের কথা ভুলতে পারেননি। সেই থেকেই এই উৎসব সমগ্র ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণভক্তরা প্রতিবছর কৃষ্ণ এবং রাধারানীর পায়ে আবির ছুঁইয়ে দোল উৎসব পালন করতে থাকেন।

এই দোল উৎসব পরবর্তীকালে হোলি নামেও পরিচিতি লাভ করে। এই হোলি নাম হওয়ার পিছনে অন্য একটি কাহিনী আছে। সনাতন ধর্ম অনুযায়ী প্রহ্লাদের পিতা অত্যাচারী রাজা হিরণ্যকশিপুর দানবী বোন ছিলেন হোলিকা। তিনি একেবারেই ভগবান বিষ্ণুকে সহ্য করতে পারতেন না। তবে তিনি ব্রহ্মার তপস্যা করে ব্রহ্মার কাছ থেকে বর পেয়েছিলেন যে আগুন তাকে কিছুই করতে পারবে না। তিনি একটি চাদর পেয়েছিলেন, যে চাদরটি গায়ে জড়িয়ে রাখলে আগুন তাঁকে স্পর্শ করতে পারতো না।

দৈত্য হিরণ্যকশিপুও ছিলেন প্রবল বিষ্ণুবিদ্বেষী আর তার ছেলে প্রহ্লাদ মহারাজ ছোট থেকেই ছিলেন প্রবল হরিভক্ত। তাই তাঁর ছেলে প্রহ্লাদ যখন সর্বদা হরিনাম করত তখন প্রহ্লাদকে শেষ করবার জন্য তিনি নানান রকম চেষ্টা করতে থাকেন। সব চেষ্টাই যখন ব্যর্থ হয়, তখন তিনি তাঁর ছেলেকে হোলিকার দ্বারা অগ্নির মধ্যে নিক্ষেপ করেন। আগুনে প্রহ্লাদকে নিয়ে হোলিকা প্রবেশ করবার পর প্রহ্লাদ শ্রী হরিকে ডাকতে থাকেন। তখন ভগবানের নির্দেশে পবন দেব হোলিকার চাদর উড়িয়ে প্রহ্লাদের গায়ে দিয়ে দেয় আর হোলিকা অগ্নিতে দহন হয়ে যায়। সেই থেকেই এই উৎসব হোলি নামে পরিচিত।

হোলিকা দহনকেই অনেকে ন্যাড়া পোড়া বলেন আর এই উৎসবের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির শেষ এবং শুভ শক্তি সূচনার কথা বোঝানো হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments