মহাভারতের ভীষ্ম ১০০ জন্মে কোন পাপ কাজ না করেও শরশয্যায় কেন শুলেন? কার কর্মের ফল ভোগ করলেন তিনি?

0
116

সঙ্গীতা চ্যাটার্জী (চৌধুরী),বহরমপুরঃ- মানুষ যাই কর্ম করুক না কেন তার ফল তাকে ভোগ করতেই হয়। নিজের করা কর্মের ফল থেকে কেউ রক্ষা পায় না। আর আমরা যা কিছু ভোগ করি তা আসলে আমাদেরই কর্মের ফল। হয়তো আমাদের এটা স্বীকার করতে অসুবিধা হয় কিন্তু তবুও এটা সত্যি। এর প্রমাণ মেলে মহাভারতের কাহিনীতে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষ হ‌ওয়ার পর পিতামহ ভীষ্ম যখন শরশয্যায় শুয়ে আছেন তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করলেন, তার এই দশার কারণ কী? ভীষ্ম বললেন,“ হে বাসুদেব আমি জানি সকলকেই তাঁর নিজের কৃতকর্মের ফল অবশ্যই একদিন না একদিন ভোগ করতেই হয়। কিন্তু, আমি কী পাপ করেছিলাম যে, এই জন্মে শরসজ্জায় থেকে এত বড় শাস্তি এত কষ্ট আমাকে ভোগ করতে হচ্ছে?”

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন তাকে বললেন,“আপনি জ্ঞানী ও আমার একনিষ্ঠ ভক্ত। আপনি তো নিজেই নিজের পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেই দেখুন না আপনি পূর্বজন্মে কি পাপ করেছিলেন?”

তখন ভীষ্ম বললেন,“আমি তো দেখতে দেখতে গত ১০০ জন্মের কর্ম দেখে ফেলেছি। কিন্তু, এই ১০০ জন্মের মধ্যে আমি এমন কোনো কর্ম করিনি যার জন্যে আমি এত বড় শাস্তি পেতে পারি!” তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “আপনি কৃপা করে এই ১০০ জন্মের ঠিক একটি জন্ম আগে দেখুন।” এরপর তখন পিতামহ ভীষ্ম চোখ বন্ধ করে ধ্যান পূর্বক ১০১ নং জন্ম দেখতে লাগলেন। ওই জন্মে তিনি একজন খুবই ধার্মিক রাজা ছিলেন। একদিন তিনি বিশাল সৈন্যদল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথের মাঝে একটি সাপ এসে তাদের যাত্রায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন এক সৈনিক এসে তাঁকে বললো, “মহারাজ, একটি সাপ রাস্তার মাঝে বসে আছে। কী করবো আজ্ঞা দিন ?” রাজা বললেন, “তুমি সাপটিকে একটি লাঠিতে বেঁধে পাশের জঙ্গলে ফেলে দাও।” সৈনিক তাই করলো। কিন্তু, সাপটি জঙ্গলে একটি বিশাল কাঁটার ঝোপের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে অবশেষে পাঁচদিন পর মারা গেল। পিতামহ ভীষ্ম তখন শ্রীকৃষ্ণকে বললেন,“দেখলাম, আমার পাপ কর্ম। কিন্তু, আমি তো সাপটিকে বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে ফেলে দিতে বলেছিলাম। না হলে তো সাপটি আমার রথের চাকার নীচে পিষ্ঠ হয়ে মারা যেতো।” তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে বললেন, “ কিন্তু, আপনি তো ফেলে দেওয়ার পর ওই সাপটির কী পরিণতি হলো, সেটা একবারও ফিরে দেখলেন না বা ওই সাপটিকে বাঁচানোর কোনোরকম চেষ্টাও করেন নি। তাই, আজ আপনার এই পরিনাম। অথচ, আপনার পুণ্যকর্ম এত বেশী ছিল যে, গত ১০০ জন্মেও আপনি কোনো পাপের ফল ভোগ করেন নি। এইজন্মে দ্রৌপদীর অসম্মান প্রত্যক্ষ করায় আপনার সকল পূণ্য ক্ষয় হয়েছে, তাই এই জন্মে ওই কর্মের ফল ভোগ আপনাকে করতে হচ্ছে” – অর্থাৎ আমরা আমাদের জীবনের যা কিছু ভোগ করে চলেছি তা আমাদেরই কর্মফল। এই কারণে একজন মানুষ অত্যন্ত সুখী হয় এবং একজন মানুষ অত্যন্ত দুঃখী হয়। সবই কর্মফল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here