যুগান্তকারী আবিষ্কার করে জাতীয় স্তরে বিরল স্বীকৃতি দুর্গাপুরের হেমশীলা মডেল স্কুলের ছাত্রের

0
560

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- যুগান্তকারী আবিষ্কার করে বিরল স্বীকৃতি অর্জন করল দুর্গাপুরের হেমশীলা মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র অরিজিৎ দাস। কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যাবহারের অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কা করে এই বিরল স্বীকৃতি অর্জন করেছে সে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সিএসআইআর (কাউন্সিল অফ সাইন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিয়াল রিসার্চ)-এর ৮০তম ফাউন্ডেশন ডে উপলক্ষে অনুর্ধ ১৮ পড়ুয়াদের জন্য এক গবেষণামূলক প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিল। এই প্রতিযোগীতে অংশগ্রহণ করে অভিনব আবিষ্কারের স্বীকৃতি স্বরূপ তৃতীয় স্থান দখল করেছে দুর্গাপুরের এই মেধাবী ছাত্র।

এ আই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন চাষের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ঔষধ দেওয়ার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে হেমশীলার দশম শ্রেণির ছাত্র অরিজিৎ। ডিপ লার্নিং টেকনিকের সাহায্য় নিয়ে অরিজিৎ এই অভিনব আবিষ্কার করেছে। এই পদ্ধতি জানিয়ে দেবে কোনও গাছে আদৌ পোকার আক্রমণ বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটেছে কিনা। আর যদি সংক্রমণ ঘটে থাকে তবে গাছের সেই নির্দিষ্ট জায়গাটি চিহ্নত করে সেই অংশে কীটনাশক স্প্রে করতে সক্ষম অরিজিৎ-এর আবিষ্কৃত এই অভিনব পদ্ধতি। ফলে এই পদ্ধতি কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার হ্রাস করতে সাহায্য় করবে। অভিনব এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন চাষীদের স্বাস্থ্য ও জল, মাটিকে দূষণ থেকে রক্ষা করা যাবে তেমনি যথেচ্ছ কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে মানুষ নিত্যদিন যে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রন্ত হচ্ছে তার থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত অরিজিৎই দুর্গাপুর থেকে নির্বাচিত প্রথম ছাত্র যে এই জাতীয় স্তরের গবেষণামূলক প্রতিযোগীতার জন্য নির্বাচিত হয়। আর প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে আরও এক বিরল সম্মানের অধিকারী হয়েছে সে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই পশ্চিমবঙ্গের কোনও ছাত্র সিএসআইআর -এর প্রতিযোগীতায় কোনও স্থান অধিকার করল। সারা পশ্চিমবঙ্গ বাসীদের জন্য যা একটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। যা আগামী দিনে রাজ্যের পড়ুায়দের গবেষণামূলক কাজে ও এই ধরণের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে।

বর্তমানে দূষণের ব্যধিতে জর্জরিত মানব সভ্যতা। দূষণের প্রভাবে ক্রমশ ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে এই জীবজগৎ। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জল, মাটি তথাপি মানুষের স্বাস্থ্যকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে সক্ষম অরিজিৎ-এর এই আবিষ্কার একথায় বলতে গেলে যুগান্তকারী, যা সকলের সাধুবাদ কুড়িয়ে নিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here