কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড বিষ্ণুপুর

0
612

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- মাত্র কয়েক মুহূর্তের ঝড়ে নিমেষের মধ্যে সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দিল। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝড়ের তাণ্ডবে চোখের সামনে উল্টে পড়লো একের পর এক বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে গাছ। কারো দোকান ঘরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে যেমন ফেলেছে, তেমনি কারো অন্যতম আয়ের উৎস পোলট্রি ফার্ম ধূলিস্মাৎ। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাত্র হাতে গোনা কয়েক মিনিটের ঝড়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পানরডাঙ্গা গ্রামের চির চেনা ছবিটাই মুহূর্তে অচেনা হয়ে গেল এলাকার মানুষের কাছে। সব কিছু হারিয়ে এখন দিশাহীন অবস্থা গ্রামবাসীদের একাংশের।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এদিন সন্ধ্যে নাগাদ আকাশ কালো করে মেঘের দেখা মেলে। সঙ্গে বজ্র বিদ্যুৎ সহ শিলাবৃষ্টি ও সঙ্গে কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে সব ওলট পালট করে দিল। সেই ঝড়ের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে, বেশ কিছু কাঁচা বাড়ির ছাউনী উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খুঁটি গুলিও উল্টে যায়।

খবর পেয়ে ঐ দিন রাতে গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, প্রায় পুরো গ্রাম যেন ধ্বংসস্তুপের চেহারা নিয়েছে। অসংখ্য গাছ যেমন ভেঙ্গে পড়ে আছে, তেমনি ইলেকট্রিক খুঁটি থেকে কাঁচা বাড়ির ছাউনী পড়ে আছে যত্রতত্র। গ্রামবাসী দিলীপ দে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, শিলাবৃষ্টির সাথে সাথে কয়েক মুহূর্তের ঝড়ে সব কিছু তছনছ করে দিল। গ্রামের ভীতরে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তাদের চাষের জমিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

তার একমাত্র পোলট্রি ফার্মটিও ঝড়ের তাণ্ডবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে জানিয়ে জয়দেব ভুঁই বলেন, মাত্র হাতে কয়েক সেকেণ্ডের ঝড়ে সব তছনছ করে দিল। ধার দেনা করে তৈরী করা এই পোলট্রি ফার্ম থেকেই দৈনন্দিন সংসার খরচ চলে। এবার কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন বুঝে উঠতে পারছেননা বলে তিনি জানান।

গ্রামে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করেন লক্ষীকান্ত বাগ। তার দোকানটিও ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, লক ডাউনের কারণে দোকান পাট বন্ধ। সংসার চালানোই দূস্কর। এই অবস্থায় ঝড়ের তাণ্ডবে আয়ের একমাত্র উৎস দোকানঘরটিও ভেঙ্গে গেছে। এই অবস্থায় সরকারী সাহায্য ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here