চড়া দামে সুস্বাদু ডাবের জলেও গলা পুড়ছে রাজ্যবাসীর !

0
945

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ প্রবল দাবদাহে জ্বলছে দক্ষিণবঙ্গ। তাপমাত্রার পারদ নিম্নগামী হওয়ার তো কোনও লক্ষণই নেই বরং ক্রমশ উর্ধগামী হচ্ছে তাপমাত্রা। বৈশাখের পর জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহও সমান তালে চলছে। সেই সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কালবৈশাখী মুখ ফিরিয়েছে দক্ষিণবঙ্গ থেকে, ফলে অস্বস্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। সকালে সূর্য ওঠার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রবল দাবদাহে তো পুড়ছেই দক্ষিণবঙ্গ তারওপরে সন্ধ্যা থেকে ভ্যাপসা গরম সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে রাজ্যবাসীর। রাস্তাঘাটে নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত গরমে নাজেহাল মানুষ তাই ফুরসৎ পেলেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন কোনও ঠান্ডা পানীয়ের দোকানে। ঠান্ডা পানীয়, সরবৎ, ফল ও আখের রস, ঠান্ডা লস্যি খেয়ে সাময়িক গলা ভেজানোর চেষ্টা করছেন। তবে এই সমস্ত কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে ভয়াবহ গরমে ডাবের জলের চাহিদা। এমনিতেই সারাবছর পেটের রোগ সারাতে ডাবের জলের কম-বেশি চাহিদা থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মের দাবদাহে সেই চাহিদা একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আর এই বিপুল চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ঝোপ বুঝে ক্রেতাদের পকেটে কোপ মারতে ভোলেন না ডাব ব্যবসসায়ীরা। কিন্তু তাসত্ত্বেও কোনও উপায় নেই আম জনতার। সকাল হলেই শহরের আনাচে-কানাচে, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, শপিং মলের সামনে ডাবের পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন ডাব বিক্রেতারা। আর গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ একটু জিরিয়ে নিতে লাইন দিচ্ছেন ডাবের দোকানে। ৩০ টাকা, ৪০ টাকা আবার লাল ডাব হলে ডাব প্রতি ৫০ টাকা দামেও বিকোচ্ছে এক একটি ডাব! আর দাম কমানোর কথা ভুলেও যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে নিচ্ছেন, সেখানেও বিক্রেতাদের উত্তর তৈরী। মশাই, এই গরমে ডাব পাওয়া যাচ্ছে না, আমাদেরকেই পাইকারি দামে ডাব প্রতি ২৫ টাকা ৩০ টাকা দাম দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে। এবার বলুন দেখি আর কি বলার থাকতে পারে? স্বাভাবিকভাবেই অধরে প্রাণ আনতে ডাবের সুমিষ্ট জলে চুমুক দিচ্ছেন ক্রেতারা। শুধু এক জায়গায় নয়, দুর্গাপুর, আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, কলকাতা সহ সমস্ত জায়গার ছবিই একই। ডাবের জলের পাশাপাশি আখের রস, ঠান্ডা পানীয়, লস্যি, ফলের রস, আম পোড়ার সরবত, আইসক্রিম ইত্যাদির চাহিদা তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ ভয়াবহ গরমের দাপট থেকে বাঁচতে ঠান্ডা পানীয়ের দিকেই ঝুঁকছেন বেশি।