নামী সংস্থার “সিল্ড” বোতলে রেলের কলের জল, দেখুন ভাইরাল ভিডিও

0
1083

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ অফিস, ব্যবসা কিংবা কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার জন্য প্রায়শই ট্রেনে সফর করে থাকেন? তাহলে নিশ্চয় স্টেশনে অপেক্ষাকালীন সময় কিংবা ট্রেনে সফররত সময়ে বিভিন্ন সংস্থার “সিল্ড” জলের বোতল কিনে থাকেন। না কিনে উপায়ও নেই। কারণ দীর্ঘ সময়ের রেল যাত্রায় বাড়ি থেকে পর্জাপ্ত জল সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না, আবার অফিসগামী নিত্যযাত্রীরা অনেকেই বাইরে থেকে জল কিনে খেতেই অভ্যস্ত। আর রেলযাত্রীদের এই অসহায়তার সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য যাত্রীদের সঙ্গে দিনের পর দিন প্রতারণা করে চলেছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, দেশের কোনও এক রেলস্টেশনে এক জল বিক্রেতা স্টেশনে লাগানো পানীয় জলের কল থেকেই বোতলে জল ভরে তা “সিল্ড” করে পরিশ্রুত পানীয় জল হিসেবে বিক্রি করছে। কিভাবে হচ্ছে পানীয় জলের এই বেআইনি কারবার? ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সংস্থার লেবেল লাগানো পানীয় জলের বোতলে স্টেশনের কল থেকে জল ভরছেন। এরপর জল ভর্তি হয়ে গেলে সেই বোতলে আগে থেকেই সঙ্গে থাকা বোতলের সিল্ড ঢাকনা চেপে লাগিয়ে দিচ্ছেন। ব্যস, কেল্লাফতে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ওই জল আসলেই সংস্থার পরিশ্রুত নাকি সাধারণ কলের জল। এভাবেই এক লিটার জলের বোতল পিছু ২০ টাকা করে ঠিক কি পরিমাণ মুনাফা এই অসাধু ব্যবসায়ীরা করছে তা সহজেই অনুমেয়।

অনেক আগে থেকেই জল নিয়ে এই অসাধু ব্যবসা চলে আসছে ভারতবর্ষে, তাই যাত্রীদের সুরক্ষায় রেলের তরফে বর্তমানে বিশের সংস্থার পানীয় জল বিভিন্ন ষ্টেশনের স্টলগুলিতে সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার জল তো রয়েছেই। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্টেশনগুলিতে বেআইনি জলের বাজার ক্রমশ বাড়ছিল। সম্প্রতি যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রেলের তরফে এই একই অভিযোগে খড়্গপুর ডিভশিন, আসানসোল ডিভিশন এবং হাওড়া-শিয়ালদহ ডিভিশনে আচমকা হানা দিয়ে বিভিন্ন হকার এবং ষ্টেশনে থাকা স্টলগুলি থেকে কয়েক হাজার জাল “সিল্ড” করা জলের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় খড়্গপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ফাল্গুনি পাঠক নামে এক ব্যবসায়ী সহ একাধিক হকারকে। ইতিমধ্যেই এহেন অভিযোগে ৪৪টিরও বেশি মামলা রেল সুরক্ষাবাহিনীর পক্ষ থেকে রুজু করা হয়েছে এবং প্রত্যেক দিনই নিয়ম করে বিভিন্ন ষ্টেশনে আচমকা অভিযান চালাচ্ছেন রেল সুরক্ষা আধিকারিকরা। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও আদৌ কি যাত্রীরা সুরক্ষিত। ন্যায্য মূল্য দিয়েও আর কতদিন সাধারণ মানুষকে তথা রেলযাত্রীদের এভাবে প্রতারণার শিকার হতে হবে তার কোনও সদুত্তর আজও জানা নেই রেলযাত্রীদের।