আরো একবার মাননীয়ার হস্তক্ষেপ চেয়ে নির্জলা উপবাসের পথে মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষকরা

0
776

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতাঃ- আরো একবার মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী করলেন মেধাতালিকাভুক্ত নবম-দ্বাদশ স্তরের বঞ্চিত শিক্ষকরা। তাদের বক্তব্য ” মাননীয়া কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, তাহলে কেন নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করে মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থীদের চাকরী সুনিশ্চিত করছেন না ? ” মাননীয়া তাদের ন্যায্য দাবী না মানা অব্ধি নির্জলা উপবাস এমনকি স্বেচ্ছামৃত্যুর পথও তারা বেছে নেওয়ার সংকল্প নিয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের অভিযোগ ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন দ্বারা যে নবম-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের যে পরীক্ষা হয়, সেখানে কমিশন স্বচ্ছ মেধাতালিকা প্রকাশ করেনি , নাম্বার প্রকাশ করেনি এমনকি মেধাতালিকায় অপেক্ষাকৃত পিছনের সারিতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ করেছে। প্রতিবাদে প্রথম ধাপে ডাক পাওয়া বঞ্চিত প্রার্থীরা দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রেস ক্লাবের সামনে যে দীর্ঘ ২৯ দিনের অনশন করেন। সেখানে গিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন “মেধাতালিকাভুক্ত সকলের চাকরি হবে”। কিন্তু দীর্ঘ ২ বছর কেটে যাওয়ার পরও মাননীয়ার সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, বরং লকডাউন চলাকালীন এসএমএস- এর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে অকৃতকার্যদের ব্যাপক হারে অবৈধ নিয়োগ নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার সমাধানের জন্য যে পাঁচজনকে কমিশনের সাথে বৈঠক করতে বলেন তারা কমিশনের সাথে সমঝোতা করে অপেক্ষাকৃত পিছনের সারিতে থেকেও চাকরি সুনিশ্চিত করেছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

বঞ্চিত প্রার্থীরা প্রতিবাদ স্বরূপ মহামান্য হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে ফের সল্টলেকে সেন্ট্রাল পার্কের গেট নং ৫ এর কাছে দীর্ঘ ১৩৯ দিনের রিলে অনশন ও অবস্থান বিক্ষোভ করছে। আন্দোলনকারী বনশ্রী হালদার, চন্দন প্রধান,সুদীপ মন্ডল, ইলিয়াস বিশ্বাস, রাকিব হোসেন, পার্থ প্রতিম মন্ডলদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে কমিশন যেভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে সুকৌশলে অকৃতকার্যদের নিয়োগ করছে তা নজির বিহীন।” তাদের বক্তব্য” ন্যায়বিচারের ভার আমরা এ রাজ্যের সুপ্রিমোর হাতেই তুলে দিলাম। মাননীয়া বলেন প্রতিশ্রুতি দিলে সেটা রাখেন। উনি নিজেও ভোটের আগে বলেছেন শিক্ষক নিয়োগে চরম দুর্নীতি হয়েছে। তাই মাননীয়া অতি দ্রুত তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মেধাতালিকাভুক্ত সকলের ন্যায্য চাকরি সুনিশ্চিত করুক। “

অনশন মঞ্চেই রোজা রেখে কেটেছে রাকিব হোসেন, সালাউদ্দিন মোল্লা, মাসুদ আলম, আতাউল, আমন,সৈরুদ্দিন, আরব গাজীদের পবিত্র রমজান মাস।পাশাপাশি ইয়াস, মহামারী করোনাকে উপেক্ষা করে মঞ্চে জয়দেব পাল, সুখেন সরকার, প্রণব মন্ডল, প্রশান্ত বাউরি, মমতা সামন্ত, তৃষা সরদার, ত্রিদিপ সুন্দরদের মতো শতাধিক প্রার্থীর বিনিদ্র রাত কাটছে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায়। সোনার বাংলা গড়ার কারিগর রাজ্য সুপ্রিমো এই শ্রমজীবী, কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা মেহেনতি মজদুর সমাজের প্রতিনিধিদের যোগ্য মেধার প্রতি ন্যায় বিচার করেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here