ঠাকুর রামকৃষ্ণের কথায়,কীভাবে ভগবানকে ডাকলে ভগবান অসম্ভব‌ও সম্ভব করেন

0
512

সংগীতা চৌধুরী, বহরমপুরঃ- ঈশ্বরের শরণাগত হয়ে ব্যাকুল হয়ে ডাকলে সমস্ত অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায়, এই কথা স্বয়ং রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃততে তিনি বলেছেন, ব্যাকুল হয়ে ভগবানকে ডাকলে সমস্ত অসম্ভব‌ই সম্ভব হয়। ভগবানের শরণাগত হলেই সব সম্ভব। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথায়, “তিনি সব শুনবেনই শুনবেন, সব সুযোগ করে দেবেন।”

কিন্তু ভগবান তখনই আমাদের কথা শুনবেন যখন আমরা তাঁর শরণাগত হবো। এই প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন,“তাঁর শরণাগত হও, আর ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা কর, যাতে অনুকূল হাওয়া বয়, যাতে শুভযোগ ঘটে। ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন।” ভগবানকে ব্যাকুল হয়ে ডাকলে যে তিনি সমস্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে দেয় এই বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে পরমহংস রামকৃষ্ণদেব একটি গল্প বলেছিলেন, সেটিই আজকে বলবো।

“একজনের ছেলেটি যায় যায় হয়েছিল। সে ব্যক্তি ব্যাকুল হয়ে এর কাছে ওর কাছে উপায় জিজ্ঞাসা করে বেড়াচ্ছে। একজন বললে, তুমি যদি এইটি যোগাড় করতে পারো তো ভাল হয়, স্বাতী নক্ষত্রের জল পড়বে মড়ার মাথার খুলির উপর। সেই জল একটি ব্যাঙ খেতে যাবে। সেই ব্যাঙকে একটি সাপে তাড়া করবে। ব্যাঙকে কামরাতে গিয়ে সাপের বিষ ওই মড়ার মাথার খুলিতে পড়বে, আর সেই ব্যাঙটি পালিয়ে যাবে। সেই বিষজল একটু লয়ে রোগীকে খাওয়াতে হবে। লোকটি অমনি ব্যাকুল হয়ে সেই ঔষধ খুঁজতে স্বাতী নক্ষত্রে বেরুল! এমন সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। তখন ব্যাকুল হয়ে ঈশ্বরকে বলছে, ঠাকুর! এইবার মরার মাথা জুটিয়ে দাও। খুঁজতে খুঁজতে দেখে, একটি মরার খুলি, তাতে স্বাতী নক্ষত্রের জল পড়েছে; তখন সে আবার প্রার্থনা করে বলতে লাগল, দোহাই ঠাকুর! এইবার আর কটি জুটিয়া দাও-ব্যাঙ ও সাপ! তার যেমন ব্যাকুলতা তেমনি সব জুটে গেল। দেখতে দেখতে একটি সাপ ব্যাঙকে তাড়া করে আসছে, আর কামড়াতে গিয়ে তার বিষ, ওই খুলির ভিতর পড়ে গেল।”

তাই আমাদের যেমন কর্ম করে যেতে হবে তেমনি ভগবানের পাদপদ্মে আমাদের মনকে রাখতে হবে, ভগবানের শরণাগত হতে হবে আমাদের। ভগবানের শরণাগতির কী অর্থ, কী ভাবে ভগবানের শরণাগত হবেন তা অন্য আরেকদিন বলবো, আপাতত অন্তরের সমস্ত সংশয় ঘুচিয়ে দিয়ে শুধু বিশ্বাস করুন ভগবানের শরণাগত হলে সমস্ত অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায়। হরে কৃষ্ণ। রাধে রাধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here