মহিষাদল রাজ পরিবারের ২৫০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপুজো

0
743

সংবাদদাতা, মহিষাদল :

মহিষাদল রাজ পরিবারের ২৫০ বছরের প্রাচীন পুজো আজও রীতিনীতি মেনে হয়ে আসছে। গড়কমলপুর ও রংগিবসান এই দুটি গ্রামকে নিয়ে আজকের যে মহিষাদল তা এক সময় মহিষাদল পরগনার জমিদারির প্রধান কেন্দ্র ছিল। জমিদার বা রাজবংশের আদি পুরুষ রাজা জনার্দন উপাধ্যায়ের ষষ্ঠ পুরুষ আনন্দলাল উপাধ্যায় ১৭৬৯ সালে মৃত্যুর পর তাঁর ধর্মপরায়ণা পত্নী রানী জানকী সিংহাসনে বসেন।

রানী জানকী ১৭৭৮ সালে রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। সেই থেকেই রীতিনীতি মেনেই রাজ পরিবারের সদস্যরা পুজো করে আসছে। নেই সেই রাজবৈভব, নেই অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাতে জ্বলে না আর ঝাড়বাতি, শোনা যায় না আর সানাই এর সুর। সময়ের ও কালের গভীরে সব বিলিন হয়ে গেছে। আগের মত অতো আড়ম্বর এখন আর নেই। আজও সেই আটচালার সামনে দূর্গা মন্ডপে একচালার প্রতিমা পুজিতা। রানী জানকী পুজোর প্রচলন শুরু করলেও ১৮০৯ সালে রানী ইন্দ্রাণীর আমল থেকেই মহা সমারোহে এই পুজো আজও চলে আসছে । যেহেতু কুল দেবতা গোপাল জীউ সেহেতু বৈষ্ণব মতে এখানে পুজো হয়। রাজ বাড়িতে প্রতিপদ থেকেই ঘট ওঠে। আগে নিয়ম ছিল যে তিথি তত মন চালের ভোগ দেওয়া হত যেমন প্রতিপদে এক মণ দ্বিতীয়াতে দু মণ এই ভাবে দশমীতে দশ মণ চালের ভোগ দেওয়া হত। কিন্তু আজ আর তা হয়না তবে নিয়ম মেনে অষ্টমীতে আট মণ চালের ভোগটা হয়। দুর্গাপুজোর সময় রাজ বাড়ির দূর্গা দালানে যাত্রা নাটক প্রভৃতি হত।

রানী মা ও রাজ পরিবারের মহিলারা চিকের আড়ালে বসে যাত্রা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেন। আগে সন্ধি পুজোতে কামান ফাটানো হতো এখন আর হয়না শব্দ দূষনের আইনের নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলে। আগে অষ্টমী ও সন্ধি পুজতে রাজবাড়ীর মহিলারা যখন আসতেন পুজো দিতে, সেই সময় অন্য কেউ প্রবেশ করতো না আটচালার সামনে দূর্গা মন্ডপে । এখনও আসেন তবে সেই বিধি নিষেধ এখন আর নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here