দুর্গাপুরের কাদারোডে প্রতি সপ্তাহে ‘শখ’ মেটাতে আসতেন বাঁকুড়ার শিশু পাচারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ

0
1383

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর:– সেজেগুজে ‘বাবু’ হয়ে, ফি-হাপ্তায় দুর্গাপুর শহরের কাদারোডের নিষিদ্ধ পল্লীতে ‘শখ’ মেটাতে আসতেন বাঁকুড়ার জহর নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল কমল রাজোরিয়া। পুলিশি জেরায় তার ‘বাঁধা’ রক্ষিতা রিয়া বাদ্যকর-ই নয়, মুখে চুনকালি মেখে সে কথা কবুল করেছেন স্বয়ং কমল কুমারও।

রবিবার রাত্রে ৬০ নং জাতীয় সড়কের পাশে বাঁকুড়া শহর লাগোয়া কালিপাথরে শিশু পাচার করার সময় যাকে বলে হাতেনাতে ধৃত কমলকুমার ও তার শাগরেদরা দফায় দফায় এমন কথাও ফাঁস করে দিয়েছেন, যে কাদারোডের পতিতা পল্লীতে তার অবাধ বিচরণ তো ছিলই, তার নিয়মিত যোগাযোগও ছিল শহর দুর্গাপুরের কিছু নামী স্কুলের কয়েকজন শিক্ষিকার সাথেও। পুলিশ সেইসব শিক্ষিকার নামের তালিকাও তৈরি করছে, বলে জানা গেছে।

“কমলকুমার স্যারের শুধু মেয়ে হলে তো চলবে না! তার দরকার বাচ্চাও। এই পতিতাপাড়ায় অনেক পতিতার ফালতু বাচ্চা জন্মায়। তাদেরকে কিছু টাকা দিয়ে স্যার আর তার মত আরো কিছু ‘শৌকিন’ লোক এখান থেকে কিনে নিয়ে যায়,”- বললেন কাদারোডের পতিতা পাড়ারই এক দোকানদার স্বপন দত্ত। এই স্বপনের সাথে কমলকুমারের আলাপ তিন বছরেরও বেশি। তার কথায়, “উনি খুব শৌকিন মানুষ। প্রতি হপ্তায় এখানকার মেয়েদের সাথে সময় কাটাতে আসেন। অনেকক্ষণ করে থাকেন।” তার কথায়, “স্যারের দুজন বাঁধা রক্ষিতা থাকলেও মাঝে মাঝে অন্য মেয়েদের ঘরে ঢুকে যেতেন। তারপর ‘কাজ’ হয়ে গেলে আমার চা দোকানে কিছুক্ষণ বসে চা-খেয়ে গল্প করে আবার বাঁকুড়ায় ফিরে যেতেন।

তেইশ বছরের রিয়াকেই বেশী পছন্দ মাষ্টারের। রিয়ার বয়স ২৩, তবে সে আবার পাঁচ সন্তানের মা। মাত্র ২৩ বছরেই কি করে একজন মহিলা পাঁচ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন? এই প্রশ্নের জবাবে, বাঁকুড়া কোর্টের আইনজীবি রথিন দে বলেন, “সেটা কি এতটাই অসম্ভব?মেয়েদের সন্তান ধারণ ক্ষমতা কৈশরের পর থেকে শুরু হয়ে যায়।” পুলিশের বরিষ্ঠ আধিকারিকদের অবশ্য দাবি, “রিয়া তার মা আর ভাইয়েরা মিলে অন্য পতিতাদের ঘর থেকে অবাঞ্ছিত সন্তান নূন্যতম টাকায় কিনে কমলকুমারের মতো ‘দালাল’দের মাধ্যমে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করত।” প্রয়োজনে, কমলকুমারের হেফাজত থেকে উদ্ধার হাওয়া পাঁচ শিশুর ডি.এন.এ পরীক্ষারও দাবি তুলেছেন শিক্ষক সন্দীপ বাউড়ি। তার দাবি, “তাহলেই শিশু পাচার কাণ্ডে কমলকুমারের সরাসরি জড়িত থাকার পর্দা ফাঁস হবে।”কমলকুমারের আইনজীবির দাবি, “নিতান্ত গরিবীর কারণেই নিজের সন্তানদের নিঃসন্তান দম্পতির কাছে কমলের মারফৎ দত্তক দিত রিয়া।” এভাবেই এক সন্তানহীন শিক্ষিকা সুষমা শর্মা রিয়ার নয় মাসের শিশুটিকে দত্তক নিয়েছিলেন। “তার কাগজপত্র স্যারই তৈরি করে দিয়েছিলেন,” দাবি ওই আইনজীবির।

আদতে রাজস্থানের বাসিন্দা কমল কুমার বাঁকুড়ার জহর নবোদয় বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে সেখানে একাই বসবাস করেন। তার স্ত্রী, পুত্র’রা রাজস্থানেই আছে। “একাকী থাকার কারণেই মাষ্টার মশাই দুর্গাপুরের যৌনপল্লিতে সঙ্গী খুঁজতে আসতেন,” দাবি শিক্ষক সন্দীপের। কমলকুমারের সাথে সদ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার দায়িত্ব পাওয়া ডাঃ সুভাষ সরকারের একটি ছবিকে ঘিরে সোমবার দুপুর থেকেই দারুন চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে অবশ্য মুখে কুলুপ সুভাষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here