রাজ্যে প্রথম তিন তালাক আইনে মামলা রুজু দেওয়ানদিঘি থানায়

0
627

সংবাদদাতা, বর্ধমান:-

রাজ্যে প্রথম তিন তালাক আইনে মামলা রুজু হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানায়। কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। মঙ্গলবার অভিযুক্ত স্বামী সাজেদ হোসেন ও ম্যারেজ রেজিস্ট্রার সালমা খাতুন বর্ধমান সিজেএম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের আইনজীবী সৈয়দ মুজতবা আলি বলেন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দু’জনকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়ে তাঁদের থানায় ডেকে পাঠায় পুলিস। তাঁরা থানায় হাজির হয়ে তদন্তে পুলিসকে সব ধরণের সাহা্য্য করেছেন। পুলিস তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি। তাই, যে কোনও শের্ত অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করা হোক। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন। সওয়াল শুনে আত্মসমর্পণকারীদের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা। নিের্দশে তিনি জানিয়েছেন, থানায় হাজির হওয়ার পর তদন্তকারী অফিসার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেনি। তাই, অভিযুক্তদের আটকে রাখার প্রয়োজন নেই বলেই মনে হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবী বলেন, অভিযোগে আইনের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। ৩ বার পৃথক নোটিশ পাঠিয়ে আইন মেনে তালাক দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এটাই সম্ভবত প্রথম তিন তালাক আইনে মামলা রুজু হল।


আদালতে দেওয়ানদিঘি থানার বিজয়বাটির জান্নাতি খাতুন অভিযোগ করেছেন, তাঁর সঙ্গে গত বছরের ২০ জুলাই বর্ধমান শহরের বাহিরসর্ব্বমঙ্গলা পাড়ার বাসিন্দা সাজেদের মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বকেয়া পণের জন্য চাপ দিতে থাকে। তা দিতে না পারায় তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এ বছরের ১ জানুয়ারি স্ত্রীধন কেড়ে নিয়ে মারধর করে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি বাপেরবাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর ম্যারেজ রেজিস্ট্রার সালমা খাতুনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে তিল তালাকের চিঠি দেওয়া হয়। যে পদ্ধতিতে তাঁকে তালাক দেওয়া হয়েছে তা আইনসিদ্ধ নয় এবং মুসলিম ওমেন প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ অ্যাক্টের পরিপন্থী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আরজি জানান তিনি। তাঁর আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুসলিম মহিলাদের স্বার্থরক্ষায় দেশে তিন তালাক আইন চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করে তালাক দেওয়া হয়েছে। সুবিচার পেতে মামলা করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যে তিন তালাক আইনে মামলা হয়েছে বলে জানা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here