জীবন সংগ্রামে হাল না ছাড়া শিবানীদেবীকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কুর্নিস জানাচ্ছেন এলাকার মানুষ

0
173

সংবাদদাতা,কাঁকসঃ- কাঁকসার রথ তলায় ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। ভোর থেকেই সেখানে চা খেতে ভিড় জমান এলাকার মানুষ। ৫৫ বছর ধরে একইভাবে এই ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন কাঁকসার সিংপাড়ার বাসিন্দা শিবানী গোস্বামী। বয়স এখন ৭০ ছুঁই ছুঁই। তবুও বয়সও যেন হার মেনেছে তাঁর কাছে। এখনও নিয়ম করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান সামলে চলেছেন তিনি।

সেই কবেকার কথা। স্মৃতি হাতরে শিবানীদেবী জানালেন বাবা মারা যাওয়ার পর তার উপরই সংসারের সব দায়িত্ব এসে পড়ে। তাই সংসারের হাল ধরতে বাবার ছোট্ট চায়ের দোকানের সসপ্যান হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই শুরু। বাবা মার যাওয়ার আগে বিয়ে হয়েছিল শিবানীদেবীর। কিন্তু ছেলে যখন কোলে, বসয় সবে ছ’মাস, সেই সময় হঠাৎ একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যান তাঁর স্বামী। অনেক খোঁজাখুজি করেও তার আর হদিশ পাওয়া যায়নি। স্বামীর নিরুদ্দেশ হওয়ার পর বাবার মৃত্যু। কোলের ছেলেকে নিয়ে মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ে। তবুও জীবনের ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জের কাছে মাথা নত করেননি শিবানীদেবী। পিছু না হটে নিজেই তুলে নেন গোটা সংসারের দায়িত্ব। নিজের শখ আল্লাদের দিকে নজর না দিয়ে বরং সংসারের দায়িত্ব সামলাতে ৫৫ বছর ধরে একইভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বানিয়ে চলেছেন। শিবানীদেবীর অবশ্য তা নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই বরং এই চায়ের দোকান তার সংসারের সমস্ত চাহিদা, ছেলের পড়াশুনা থেকে, বিয়ে , এখন নাতি-নাতনি সবই মিটিয়ে চলেছে। তাই এই চায়ের দোকান, এই জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। এমনটাই দাবি কাঁকসার সিংপাড়ার বাসিন্দার।

পড়াশুনা শেষ করে গত কয়েক বছর ধরে ছেলে রামকৃষ্ণ অবশ্য মায়ের পাশাপাশি দোকান সামলাতে শুরু করেছেন। তবে রামকৃষ্ণ জানালেন মা যতদিন চায় ততদিন দোকানে আসবেন। অন্যদিকে কয়েক মাস হল সরকারি বার্ধক্য ভাতাও পেতে শুরু করেছেন শিবানীদেবী। ৫৫ বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে এইটুকুই যা প্রাপ্তি। তবে বিশ্রাম নেওয়ার, থেমে যাওয়ার মানুষ নন শিবানী। বরং তাঁর দাবি যতদিন সক্ষম থাকবেন দোকানে আসবেন, কাজ করবেন।

যেখানে কোনও কিছুর অভাব না থাকা সত্ত্বেও হতাশায় জীবন সংগ্রামের লড়াই থেকে নিস্তার পেতে জীবনকেই শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেন বহু মানুষ, সেখানে কাঁকসার শিবানী গোস্বামীর এই সাধরণ জীবন যাপন করে বেঁচে থাকা, সবাইকে বাঁচিয়ে রাখা, অদ্যম লড়াই, জীবনের কাছে হার না মানা, উদাহরণ হয়ে থাকবে সকলের কাছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিবানী দেবীর জীবন সংগ্রামকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন এলাকার মানুষ। তাঁকে কুর্নিশ জানালাম আমরাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here