সেই বিশুদ্ধ প্রেমের তত্ত্ব যার দ্বারা কৃষ্ণকে বেঁধে রাখা যায়

0
817

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আজকে আমি আপনাদের সেই ঘটনাটি বলবো যাতে রাধারাণী কতো বড়ো ভক্ত আপনি সেটি অনুভব করবেন। রাধা রাণীর ঐশ্বরিক প্রেমের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করবেন এবং একই সঙ্গে অনুভব করবেন যে পরমাত্মা কে পেতে গেলে আত্মার কতখানি একাত্মতা প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে একজন ভক্ত যখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে অন্তরের দিক থেকে সম্পূর্ণ একাত্ম হয় তখন ই কৃষ্ণ প্রাপ্তি ঘটে। আত্মা ও পরমাত্মা’ র মিলন ঘটে। যদিও রাধারাণী কৃষ্ণের ই অর্ধাংশ তবু ও এই মর্ত্যলোকে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন আমাদের প্রেম ভক্তির শিক্ষা দিতে। একদিন, রুক্মিণী শ্রী কৃষ্ণকে দুধ খেতে দিলেন৷ দুধটা বেশী গরম ছিল, কৃষ্ণের জিহ্বা খুব বাজে ভাবে পুড়ে গেল৷ উনি ব্যাথা আর জ্বালার জন্য ছটফঠ করে উঠলেন, ওনার মুখদিয়ে একটাই শব্দ বের হলো “হে রাধে”। কথাটা শুনেই রুক্মিণী বলে উঠলেন প্রভু, রাধার মধ্যে কি এমন আছে যা আমার মধ্যে নেই। আপনি প্রত্যেকটি নিশ্বাসের সঙ্গে রাধার নাম নেন আমিও তো আপনাকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসি, আপনি কখনো কোনো কষ্টে আমার নাম নেন না কেন? শ্রী কৃষ্ণ ততক্ষনে স্বাভাবিক হয়ে গেছেন, উনি বললেন, তুমি কি কখনো রাধাকে দেখেছ? এইটুকু বলেই স্মিতভাবে হাসতে লাগলেন৷ পরের দিন রুক্মিণী রাধার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন৷ রাধার ঘরের বাইরে অপরূপ সুন্দরী দাঁড়িয়ে ছিলেন, ওনাকে দেখে রুক্মিণী ভাবলেন যে ইনিই হবেন রাধা, আর ওনার চরণ স্পর্শ করতে গেলেন৷
জয় কৃষ্ণমনোমোহিনী রাধে। সুন্দরী মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, “কে আপনি”? রুক্মিণী নিজের পরিচয় দিলেন এবং আসার কারণ বললেন৷ সুন্দরী মহিলা বললেন, আমি রাধার দাসী, আর রাধার ঘরে যাওয়ার আগে এইরকম সাতটি দরজা পার করতে হয়। রুক্মিণী এক একটি দরজা পার করছিলেন আর অপূর্ব সুন্দরী দাসীদের দেখে মনে মনে ভাবছিলেন, যাঁর দাসীরা এমন সুন্দরী, তিনি নিজে না জানি কত সুন্দরী হবেন৷ ভাবতে ভাবতে উনি পৌঁছোলেন রাধার কক্ষে। ওনার অপরুপ চেহারায় সূর্যের থেকেও বেশী তেজ ছিল রুক্মিণী সোজা রাধার পায়ে পড়লেন কিন্তু একি! রাধার সারা শরীরে ফোসকা! রুক্মিণী কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। রাধা তখন উত্তরে বললেন: আপনি যেই দুধ ওনাকে খেতে দিয়েছিলেন, ওটা বেশী গরম ছিল, দুধ খেয়ে ওনার জিহ্বাতে ফোসকা পড়েছিল আর উনি “হে রাধে” বলার সঙ্গে সঙ্গে সব ফোসকা আর সব ব্যাথা আমার শরীরে এসে গেছে। এর পর ওনাকে কিছু খেতে দেওয়ার আগে নিজে খেয়ে দেখে নেবেন৷ রুক্মিণী, এটা কি করে সম্ভব রাধা। এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি কারোর হৃদয়ে বাস করবেন, মস্তিষ্কে নয়। অন্তর থেকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসাই ধর্ম পালন। অন্তরের সেই বিশুদ্ধ প্রেমের দ্বারাই কৃষ্ণ লাভ সম্ভব। কৃষ্ণ কৃপা করুন আমাদের সকলের রাধারাণীর মতো অন্তরে প্রেম ভক্তির উদয় হোক। যাতে আমাদের অন্তরে আমরা কৃষ্ণকে পাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here