এই ব্রত ভক্তি ভরে পালন করলে সন্তান সুখ লাভ হয়

0
64

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- যুধিষ্ঠির কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন কোন ব্রত প্রভাবে প্রাচীনকালে এক রাজার পুত্র প্রাপ্তি ঘটেছিল। কৃষ্ণ বললেন- প্রাচীনকালে দ্বাপর যুগ আরম্ভের ও আগে এক রাজা বাস করতেন মহীজিৎ নামে। তিনি মাহেশমতি পুরীতে রাজত্ব করতেন। ‌কিন্তু এই রাজার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তার মনে কোন সুখ ছিল না। তখন তার প্রজাগণ তাকে অনুরোধ করলেন বনের মধ্যে অবস্থানকারী ত্রিকালজ্ঞ লোমশ মুনির কাছে গিয়ে পুত্র হীনতার কারণ জানতে চাওয়ার জন্য। প্রজাগণের অনুরোধ রক্ষা করতে রাজা বনের মধ্যে গেলেন, এবং তিনি ত্রিকালজ্ঞ লোমশ মুনির কাছে নিজের পুত্র হীনতার কারণ জানতে চাইলেন। লোমশ মুনি রাজার পুত্র হীনতার কারণ হিসেবে বললেন পূর্ব জন্মে রাজা মহীজিৎ ছিলেন একজন গরিব বৈশ্য। তিনি জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে ম্যাধাহ্ণ সময়ে ভ্রমণ করতে করতে পিপাসায় ব্যাকুল হয়ে একটি জলাশয়ে জল পানের সময় একটি সবৎসা গাভীকে জলপান থেকে বঞ্চিত করেন। এই অতৃপ্ত গাভী ও বৎসের তৃষ্ণার জলপানে বিঘ্ন উৎপাদন জনিত অপকর্ম রাজা পূর্ব জন্মে করেছিলেন এইজন্যই এই জন্মে তিনি পুত্রহীন হয়ে জন্মেছেন অবশ্য পূর্বজন্ম কিছু পূণ্য থাকার কারণে তিনি নিস্কণ্টক রাজ্যের অধিকারী হয়েছেন। এরপর রাজা মুণির কাছে এই পাপ প্রশমনের উপায় জানতে চান তখন মুনি বলেন যে সকল প্রজারা শুক্লপক্ষের একাদশী করুক এবং সেই ফল রাজাকে দান করলে রাজার পুত্র হবে। এরপর প্রজারা রাজার পুত্র লাভ হেতু শ্রাবণ শুক্লপক্ষের পবিত্রারোপিনী একাদশী করেন ও সেই ফল রাজাকে দান করেন। ফল স্বরূপ রাজার পুত্র প্রাপ্তি হয়। পবিত্রারোপিনী একাদশীর মাহাত্ম্য যিনি একমনে শ্রবণ করেন তার সমস্ত পাপ তৎক্ষণাৎ নষ্ট হয়ে যায়। আর ইহলোকে সে পুত্র সুখ ও পরলোকে স্বর্গলোক প্রাপ্তি হয়। তাই স্বামী স্ত্রী মিলে এই ব্রত ভক্তিভরে পালন করবেন। স্বামী ইচ্ছুক না হলে স্ত্রী একাও এই একাদশী ব্রত পালন করতে পারেন। স্ত্রীর একাদশী ব্রত বিধান শাস্ত্র অনুমোদিত। বিশ্বাস না হলে কোনো শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিতের বিধান নিন (যিনি শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ রূপে অবহিত এরকম পুরোহিতকেই জিজ্ঞেস করবেন, মনে রাখবেন জ্ঞানহীন পৈতেধারী কিন্তু পুরোহিত নন) আজ ৩০ শে জুলাই পবিত্রারোপিনী একাদশী উপবাস।‌ এই একাদশীর সম্পর্কে ভবিষ‍্যোত্তর পুরাণে লেখা আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here