ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বলা এই তিনটি কথা মেনে চললেই জীবনে শান্তি আসবে

0
978

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আমরা প্রত্যেকে সারা জীবনভর শান্তি খুঁজে বেড়ায়। অথচ শান্তি আমরা কেউ পায় না।কিন্তু আমরা অতি সহজেই শান্তি খুঁজে পেতে পারি শাস্ত্রের কয়েকটি কথা স্মরণে রাখলে। ভগবত গীতার শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আমাদের কী করনীয় ? আর কী কী করলে আমরা শান্তি পাব? ভগবত গীতার শ্লোক–ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্ ।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি।।
(ভগবদ গীতা ৫/২৯) আমরা প্রত্যেকেই পড়েছি কিন্তু তার অর্থ অনুধাবন করতে পারিনি তার ব্যাখ্যা বুঝতে পারলেই আমরা শান্তি লাভের উপায় খুঁজে পাবো।তাই মাত্র তিনটি কথা স্মরণ রাখুন আর জীবনের মধ্যে শান্তিকে খুঁজে নিন।

“ভোক্তারং” অর্থাৎ এই পৃথিবীর সবকিছু পরম বক্তা হলেন পরমেশ্বর। তাই তাকে বঞ্চিত করে কোন কিছু ভোগ করতে গেলে আমাদের জীবনে অশান্তি নেমে আসবে। আপনার জীবনের ভালো দিন অথবা খারাপ দিন সমস্ত পরিস্থিতিতেই আপনি ভগবানের ভজনা করতে থাকুন। এমনটা যেন না হয় আপনার মন খারাপ থাকলে আপনি ভগবানের সন্ধ্যা আরতি তে মন ই দিচ্ছেন না। বা যেদিন আপনার খুব খুশি সেদিন আপনি ভগবানকে ভুলেই গেলেন। মনে রাখবেন আপনার জীবনে যা কিছু লাভ হচ্ছে তা তারই কৃপায়। তাই যদি আপনার জীবনে কিছু লাভ হয় তাহলে সেই লাভের অংশ থেকে মানব সমাজের জন্য কিছু করুন, দুঃস্থদের জন্য কিছু করুন, পথের অসহায় পশুদের জন্য কিছু করুন- এই কাজ করার অর্থই ভগবানের জন্য কাজ করা। এই কাজ করতে কখনো ভুলবেন না। দেখবেন আপনার অগোছালো জীবন সুন্দর ভাবে চলে যাচ্ছে তার কৃপায়।

দ্বিতীয়ত যে কথাটি মনে রাখবেন তা হল-
” সর্বলোকমহেশ্বরম্”, অথাৎ এ জগতের স্থাবর ও জঙ্গম সবকিছুর নিয়ন্তা ও মালিক হলেন তিনিই। তাই কোন কিছু হারিয়ে গেলে বা নিকট কোন আত্মীয় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও মনের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা কে জাগতে দেবেন না, মনে রাখবেন ভগবানই সবকিছু ঠিক করেন। তাই যদি আপনার সাথে কিছু অন্যায় হয় তার প্রতিকার ও ভগবানই করবেন। আপনি সবকিছু ভগবানের উপর ছেড়ে দিন। অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করুন, কিন্তু জীবনের ছোট বড় সব ক্ষেত্রেই সংসারের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই নিজে মীমাংসা করতে যাবেন না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভগবানের উপর ছেড়ে দিতে হয়।এতে আপনার মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।

তৃতীয়তঃ,”সুহৃদং সর্বভূতানাম”অথাৎ তিনি সকলের পরম সুহৃদ বা বন্ধু। আপনার জীবনে ভাল কাজ ও মন্দ কাজ যা আপনি সারাদিন ধরে করছেন। দিনের শেষে সেই সবকিছু ভগবানের চরণে নিবেদন করুন। অর্থাৎ ভগবান কেই বলুন। ভগবানকে বলতে বলতে একটা সময় আপনি বুঝতে পারবেন আপনার খারাপ কাজ কী আর ভালো কাজ কী! কী করা উচিত কী করা উচিত না তাও আপনি একটা সময়ের পর থেকে বুঝতে পারবেন,আপনি যদি প্রতিদিন ভগবানকে নিয়ম মেনে সবকিছু বলতে থাকেন ভগবান কে নিজের প্রকৃত বন্ধু মনে করে,তাহলে একটা সময়ের পর ভগবান আপনার ওপর কৃপা করবেন, এর ফলে আমাদের অন্তর জাগ্রত হবে এবং আমাদের মধ্যে সেই জ্ঞান আপনা আপনি তৈরি হবে যার ফলে আমরা বুঝতে পারবো কি উচিত আর কি অনুচিত!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here