দিপ্তাংশুর বৈঠকের পরই “কোর” মোড়লরা পাঁজি দেখছেন, গেরুয়া বৈঠক কবে?

0
839

সুবর্ণ ন্যায়ধীশ

সম্ভবত একেই বলে- কারে দিলে মা রাজার পার্ট!’

একসময় তিনি-ই মুকুল রায়কে তৃনমূল কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে বিজেপি তে নিয়ে আসেন, ২০১৬ তে। মুকুল- ঘনিষ্ঠ সেই কর্নেল দিপ্তাংশু চৌধুরিই এখন পালে পালে গেরুয়ামুখো ‘সবুজ ভাই’ দের ঘরে ধরে রাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট। তৃনমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর নির্দেশে ঘুরছেন জেলায় জেলায়। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই কর্নেল ই এখন ‘অভিযোগের সুরাহা আর সরকারি প্রকল্পের সঠিক রুপায়ন’ র যে নজরদারি সেল খুলেছে জোড়াফুল দপ্তর- তার প্রধান। ঘুরছেন ও পাড়ায় পাড়ায়। তবে, হালে আদতে কতটা পানি পাচ্ছেন, তা নিয়ে সংশয় আছে! সংশয় দলের অন্দরে আর স্বস্তি দলের বাইরে।

দলের বাইরে স্বস্তি কিসের? কিসে তাদের ফুর্তি?

তৃনমূল কংগ্রেস মনে করে- সিপিএম এখন নস্যি, আসল শত্রু বিজেপি। দিপ্তাংশু’ র জেলা সফরগুলির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে গেরুয়া মণ্ডলীর দাদা- জ্যাঠারা। আর তাদের ওই নজরদারিতে উঠে আসা তথ্যই নাকি তাদের স্বস্তি আর ফুর্তির আসল কারন। ভরাপেটে, মুখে জোয়ান- মৌরি ঢেলে, আয়েশে থাকা লোকেরা যেমন ঢেকুর তোলে, বেশ কিছু জেলার ভাজপা’র বরিষ্ঠ বাহুবলীরা, দিপ্তাংশুর সফরের পর সে রকমই খুশি খুশি মেজাজে। বলছেন, “অ – ! তাহলে এজন্যই এত ঢাক ঢাক গুড় গুড়! দলটার এখন এমন হাল! এরা ২০২১ এ ভোটে লড়ার লোক পাবে তো? যে দলে পঞ্চায়েত ভোটের টিকিট পেতে জেলা নেতাদের নাকি বেশ শাঁসালো রকম ‘খুশি’ করতে হয়েছে, বিধানসভা ভোটে তারা ভোটে লড়ার লোক পাবে না- এমনটা হওয়ার নয় এখনি। ওসব গেরুয়া দলের খোওয়াব! কারন, বিজেপিও জানে, তৃনমূল কংগ্রেস তো বোঝে-ই, একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই গোটা দলটার ইউ এস পি। বাদ বাকি আয়ারাম- গয়ারামেরা আসলে নিধিরাম সর্দার। পাড়ার মোড়ল। ‘মমতা- ম্যাজিক’ যে এতো সহজে ফুরোবার নয়, ২০১৬ ভোটে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল সিপিএম- কংগ্রেস আর ওই ভোটে তাদের “গোপন দোসর” বিজেপি।

তবে, ২০১৯- র পর স্বয়ং মমতাও বুঝেছেন, দলের অন্দরে নিঃশব্দ যক্ষার যে ঘুন ধরেছে, দলের বাইরে সেটা তাঁর ছবিতেও আঁচড় কেটেছে। সেজন্যই বাংলায় ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের আমন্ত্রণ, সেজন্যই কর্নেল দীপ্তাংশুর পাড়ায় পাড়ায় আগমন। কিন্তু, কর্নেল বিচরনে বিজেপি’র তবে স্বস্তি কিসে? দুর্গাপুরে ১৬ সেপ্টেম্বর দীপ্তাংশু এলেন। শহরের বাইরে, বাছাই করা ১৫ জনকে নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করলেন ‘দিদির কাছের লোক’ এক ব্যাপারির হোটেলে। ভাল কথা। কিন্তু, কারা গেলেন? কারা তাদের ‘মহামুল্যবান’ মতামত বিতরন করলেন কর্নেলের সামনে? এরা কারা? তৃনমূল কংগ্রেস টা কি, দলের লড়াই, সংগ্রামের ইতিহাসটা কি- এসবের কোনও খোঁজ রাখেন ওই ১৫ জনের বেশির ভাগ জন? এদের বেশির ভাগের ইতিহাস কিন্তু আলাদা কথা বলে। এদের মধ্যে এমনজন ও ছিলেন, যিনি পুলিশের হাত থেকে ব্যাটন কেড়ে তৃনমূল ঠেঙিয়ে সিপিএমের বাহবা কিনেছিলেন। আরেকজন তো ইস্পাত নগরীতে এই সেদিনও জোড়াফুলের ওপর বসা মাছি দেখলেও পিষে মারতেন দুহাতে। তৃনমূল কংগ্রেসকে “বাঁচাতে” যে কোর কমিটি হচ্ছে দুর্গাপুরে, এই সব মালেরা হচ্ছেন তার মাতব্বর! ভাবা যায়!
এখন এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক- এইসব ‘কোর কমিটি ওয়ালা’রা কি কি আসু পথ্য বাতলালেন কর্নেল কে? রোগীর নাড়িটাও যিনি নিজের হাতে টিপে দেখেন না, বিধাননগরের “চ্যাম্পিয়ান” হাসপাতাল মালিক বললেন- তার হাসপাতালের সামনের রাস্তাটা মেরামতির কথা থাকলেও এখনো করে দিচ্ছে না সরকার। মানে, এই জন্য তাহলে ভোট কমে গেছে তৃনমূলের!! আরেকজন তিরিশটি বই ‘টুকে’ লেখক হওয়া, ক্ষীনকায় দীর্ঘজীবী দুহাতে বই তুলে ধরে কর্নেলকে আপ্রান বোঝানোর চেষ্টা করলেন- আদতে তিনি ‘কত্তো বড়ো লেখক’, অথচ কদরই নেই দুর্গাপুরে। মানে, এই জন্যই টি এম সি ছেড়ে সবাই ভাজপাতে ভোট দিচ্ছে।
কেউ থিত্তরি দিলেন- এত্তো জঞ্জালের মতো স্পঞ্জ আয়রন কারখানা, তার দূষন- তাই লোকে অতীষ্ঠ হয়ে টি এম সি কে তাড়াতে ‘চাইছে’। ভাবুন- এসবই কিন্তু বাম আমলে বসানো কারখানা আর যারা এ সব ফর্মুলা ঝাড়ছেন, তখন এঁরাই ছিলেন লাল পার্টির ‘লাকি কুবুতর’! গদগদ হয়ে লেজ নাড়তেন জোনাল নেতাদের পাশে। আবার কেউ এ ডি ডি এ’ র ল্যান্ড পলিশি নিয়ে গুসসা ঝাড়লেন। অর্থাৎ, ব্যাক্তিগত সমস্যা, অসুবিধার গোঁসা ঝেড়ে এনারা দিশা দিলেন কর্নেল কে। এরা চেনেন? – তৃনমূলের ব্লক, ব্রাঞ্চের যারা দল করে, তাদের? মা, মাটি, মানুষের দলের দিশা ঠিক করার ঠেকেদার হলেন তারাই – যারা মাটিও চেনেন না, মানুষও চেনেন না। স্রেফ ব্যাক্তিগত পেট ভরানোর তাগিদে এরা “দিদি” কে মা ও বলেন আজকাল, পরশুদিন যারা মমতার নামে বাছাই করা খেউর করতেন!

দু একজন অবশ্য বললেন, কাউন্সিলাররা কাটমানি খাচ্ছে, পাড়ার ছেলে ছোকরা কাউন্সিলার হয়ে তাদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, তাই মানুষ বিরক্ত হয়ে দুরে সরে যাচ্ছে দল থেকে। এ সব কথার তবু সারবত্তা আছে। এবং এটা অনেকাংশেই সত্য। দিপ্তাংশু কি করবেন, তা তিনি আর তার দল জানে। দুর্গাপুরের কোর বাবুদের একাংশ জানে, সবই তো হল, কবে বিজেপির এমন ধারা “কোর বৈঠকে” ডাক পাব? হাতে পাঁজি মঙ্গঁলবার? কারন, অনেকেই যে তলায় তলায়, সবুজ পাঞ্জাবির ভেতর গেরুয়া গেঞ্জি পরে মাসুল ফোলায়, কর্নেল বা পিকে এসবের খোজ রাখেন নিশ্চয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here