নজির বিহীন ভাবে তৃণমুলের দলীয় কার্যালয় ঘিরেই বোমা-গুলির আক্রমণ,দফতরে ঢুকে খুন অঞ্চল সভাপতিকে

0
577

সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ.:- মুর্শিদাবাদে অব্যাহত তৃনমুল নেতা-কর্মী খুনের ট্রেডিশন।শুরু টা হয়েছিল লোকসভা ভোটের সময় থেকে।যা বহাল তবিয়তে জারি রয়েছে আজও।মাত্র মাস খানেক আগেই বাড়ীর ফেরার পথে কান্দি থানার গোসাইডোব মোড় এলাকায় মাঝ রাস্থায় পথ আটকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পেটে ও পরে পা তাক করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে খুন করা হয় তৃনমূল নেতা তথা শাসক দলের কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর শেখ কে।আর এবার সব ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেল সোমবার গভীর রাতের নওদা থানার টুঙ্গি এলাকার তৃনমুল নেতা খুনের ঘটনা।তাই আর পথে-ঘটে নয়,রীতিমত ছক করে খোদ দলীয় কার্যালয় ঘিরে বোমা ছুঁড়তে ছুঁড়তে এলাকা ফাঁকা করে দিয়ে একদল দুষ্কৃতী সটান ঢুকে পড়ে দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে।আর তার পরেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একের পর এক সারা শরীরে ৬রাউন্ড গুলি করে খুন করা হয় তৃণমুলের দক্ষ নেতা সংঘঠক তথা বালি১নং অঞ্চল সভাপতি নিমাই মণ্ডল(৫২)কে।এরই মধ্যে দুষ্কৃতীদের টানা গুলি বর্ষণে একদিকে চেয়ার থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিয়ে যখন লুটিয়ে পড়ে ওই নেতা,রক্তে ভেসে যায় গোটা ঘর।তখনই দুষ্কৃতীরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে বোমা ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।খবর চাউর হতেই গোটা জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।জানা যায় প্রতিদিনের মত এইদিনও পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ওই তৃনমুল নেতা তার বাড়ী থেকে মেরে কেটে পাঁচশো মিটার দূরের ওই দলীয় কার্যালয়ে আসার উদ্দশ্যে রওনা দেয়।আর তার পরেই সেখানে দলীয় মিটিংও চলতে থাকে রাত পর্যন্ত।এর পরে দলীয় কর্মীরা দফতর থেকে বাড়ী ফিরতে শুরু করলে আচমকা এলাকা ঘিরে চলে এই হামলা।অতীতে বাম তথা সিপিএমের সাথে যুক্ত নিতাই বাবু বিগত প্রায় সাত বছর থেকে পূর্বের দল ত্যাগ করে এলাকায় তৃণমুলের সাথে যুক্ত আছেন।গড়ে তুলেছেন দক্ষ সংঘটন।আর তাই শেষ পর্যন্ত বিরোধী সিপিএম-কংগ্রেস তথা বিজেপির সকলের কাছে নিমাই বাবুর মাধ্যমে তৃণমুলের উত্থান কাল হয়ে দাঁড়ানোয় তার প্রাণ গেল বলেই মনে করছে তৃনমুল নেতৃত্ব। এই ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃনমুল সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান বলেন,”তৃনমুল কে শেষ করতে কংগ্রেস -বিজেপি মিলে এলাকায় একের পর এক খুন জখমের কান্ড ঘটিয়ে চলেছে।তবে এই ভাবে মুর্শিদাবাদে তৃণমুলের ক্ষতি করা সম্ভব নয়,এই খুন চক্রান্ত করেই করা হয়েছে”।যদিও পাল্টা কংগ্রেসে ও বিজেপির পক্ষে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব জয়ন্ত দাস ও জেলা বিজেপির সভাপতি গৌরী সঙ্কর ঘোষ বলেন,”এটা তৃণমুলের নিজেদের ভিতরের গোলযোগ,যার কারণেই দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।ওরা গা বাঁচাতে অন্যের ঘাড়ে দোষ দিচ্ছে”।মঙ্গলবার শেষ পাওয়া খবরে জানা যায় ঘটনায় ৩জন আটক হয়েছে।যদিও দন্তের স্বার্থে তাদের নাম পরিচয় কিছু জানতে চায়নি পুলিশ।এদিকে পুরো ঘটনার জেরে এলাকার বিভিন্ন এক্সিট পয়েন্ট এ পুলিশি নাকা বসানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here