সরকারি হাসপাতালের জমি দখল করে ইট বালি চিপসের ব্যবসা করার অভিযোগ উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে

0
469

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- গোটা দেশজুড়ে করোণা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। আর এই করোনা কালকে কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি জমি দখল করে দেদার ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এমনই একটি ভয়ানক অভিযোগ উঠেছে বাঁকুড়া জেলার, পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অতনু ঘোষ (তনু) ও তার পিতা নব কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে। বাঁকুড়া জেলার পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের, রাধাকান্তপুর মৌজার, জে এল নম্বর ৬০ , দাগ নম্বর ৪৮৯ একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। সেই হাসপাতালের জমিতেই অস্থায়ী রূপে পুলিশের একটি ক্যাম্প করা হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে । আর তার ঠিক পাশেই হাসপাতালের মূল জায়গা দখল করে বালি, চিপস , ইট, নামিয়ে দেদার ব্যবসা করছেন উপপ্রধান ও তার বাবা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ । স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ সারারাত ধরে বাঁকুড়ার দিকের দামোদর নদের থেকে বেশ কয়েকটি বালিঘাট মালিকদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে বালি মজুদ করা হচ্ছে যার মূল নেতৃত্বে রয়েছেন পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তনু ঘোষ বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁকুড়ার জেলাশাসককে একটি অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।

চ্যানেল ‘এই বাংলায়’ এই অভিযোগ পাওয়ার পর, আমাদের প্রতিনিধি সরাসরি যোগাযোগ করেন বাঁকুড়া জেলার পখন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অতনু ঘোষর (তনু) সাথে। তনু বাবু অভিযোগের কথা শুনে জানান তার সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কেউ এই অভিযোগ করছেন । তবে তিনি বলেন এ কথা ঠিক হাসপাতাল সংলগ্ন তার নিজস্ব বেশ কিছুটা জমি রয়েছে এবং তার জমির পাশেই হাসপাতালে জমি হওয়ায় সম্ভবত তার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত ইট, বালি, চিপস, সরকারি হাসপাতালে জমিতে থাকতে পারে। তিনি আরো অভিযোগ করেন সরকারি হাসপাতালে জমির ওপর রয়েছে প্রায় ১০০ টি অবৈধ দোকান ঘর । যে দোকান গুলির কোন বৈধ অনুমতি পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া হয়নি। তনু বাবু জানান, ” সিপিএমের আমলে এই হাসপাতালটিকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল । ডাক্তার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখানে জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল গোটা হাসপাতাল চত্বর। বেশকিছু অসামাজিক ব্যক্তিরা ওই হাসপাতালে জমিতে মদ-জুয়া ,গাজার অবৈধ আড্ডা শুরু করেছিল। আমি নিজের উদ্যোগে বাঁকুড়া পুলিশের অনুমতি নিয়ে ওই হাসপাতালের একটি ঘরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প শুরু করি। মূলত আমার উদ্যোগে হাসপাতালটিতে আবার সপ্তাহের তিনদিন ডাক্তার নিয়ে এসে এলাকার মানুষজনকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সব ভালো কথা কেউ বলছে না। শুধু কয়েক ফুট জমির উপরে আমার পিছু মালপত্র পড়ে আছে সেটাই সবার চোখে লাগছে । তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এইরকম ভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে ।”

তনু বাবু আরো বলেন, ” কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওই এলাকাতে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ এর প্রচ্ছন্ন মদতে দেদার অবৈধ বালি খাদান চলছিল। এখন সেই বালি খাদান গুলি বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই আমার ওপরে এই মিথ্যা অভিযোগ করছেন কিছু অসাধু ব্যক্তি । ” তবে তিনি একথা নিজেই স্বীকার করেছেন যে হাসপাতালের সরকারি জমির উপরে তার কিছু সংখ্যক মাল পড়ে রয়েছে প্রয়োজনে তিনি তা সরিয়ে ফেলবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here