তৃণমূল কাউন্সিলারদের অন্তর্ঘাতেই কী ফল বদলাবে লোকসভা ভোটের?

0
1164

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ চতুর্থ দফায় রাজ্যে ভোট আগামী সোমবার। তাই শেষমুহূর্তে ভোটের প্রচারে কোনও খামতি রাখতে নারাজ শাসক-বিরোধী কোনও দলই। কারণ শনিবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোট প্রচারের পরেই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের ভোটপ্রচারে ইতি ঘটবে, তাই বৈশাখের প্রখর রৌদ্রের তেজ মাথায় নিয়েই আর কয়েক ঘণ্টার প্রচারে জনগণের যতটা সম্ভব মন জয়ের চেষ্টায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। কিন্তু এতসব প্রচার পর্ব সত্বেও রাজ্যের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে যে ছবি উঠে এসেছে তা চতুর্থ দফা ভোটের আগে শাসক দল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের “পালস রেট” বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট। কারণ এই লোকসভা ভোটেই বেশ কিছু লোকসভা কেন্দ্রে শাসক দলের নেতা-নেতৃত্ব ও কাউন্সিলারদের মধ্যে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। যার আঁচ পাওয়া গেছে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কাউন্সিলারের বক্তব্যেই। শুধু তাই নয়, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালেই সংবাদমাধ্যমের দূরবীক্ষন যন্ত্রের তলায় এসেছেন শাসকদলের বেশ কিছু নেতা-নেতৃত্ব যারা কয়েকদিন আগেও শাসকদলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে অন্যতম মুখ হয়েছিলেন, কিন্তু আচমকায় লোকসভা ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁরাই ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে বিরোধী দলের হয়ে প্রচারে জনগণের দরবারে নিজেদের অনুগতদের পাঠিয়ে সেই বার্তাই দিচ্ছেন। আর এখানেই দলীয় অন্তর্ঘাতের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে রাজ্যের শাসকদল। বাদ যায়নি শহর দুর্গাপুরের বেশ কিছু কাউন্সিলাররাও। কারণ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু কাউন্সিলারের বয়ান অনুসারে দুই বর্ধমানের দলীয় পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের ওপর ক্ষোভ উঠে এসেছে। তাদের অভিযোগ পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস আসানসোল থেকে বিভিন্ন সময় বাহুবলী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসে দুর্গাপুরের বুকে থাকা তৃণমূল নেতাদের মাথায় ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও আসানসোল থেকে আগত তৃণমূলের নেতৃত্বরাই মূলত অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বেই দুর্গাপুরের ছোট-বড় সমস্ত নেতাদের উপর তাদের দাদাগিরি বজায় রেখেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। তাদের একটাই প্রশ্ন ছিল, দুর্গাপুরে শিল্পাঞ্চলে কী তৃণমূলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যোগ্য নেতার অভাব হয়েছিল? যে বাইরে থেকে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ভোট করাতে হয়েছিল। এবারের লোকসভা ভোটেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক তৃণমূল কর্মী থেকে নেতারা। তাদের অভিযোগ, দলীয় পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস আসন্ন লোকসভা ভোটে প্রার্থীদের ওয়ার্ডভিত্তিক লিড দেওয়ানোর জন্য বেমালুম চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন কাউন্সিলারদের ওপর। বেশি লিড না পাওয়া গেলে কাউন্সিলার পদ কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলাররা। এরকম পরিস্থিতিতে ভোটের দোরগোড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলারদের মধ্যে দলীয় মন্ত্রী তথা অবজারভারের প্রতি ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে এই লোকসভা ভোটেই তৃণমূল কংগ্রেসের একশ্রেনির কাউন্সিলার ও নেতা-নেতৃত্বরা তলায় তলায় বিরোধী দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ছক কষছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রচারে গিয়ে সেইসমস্ত তৃণমূল নেতৃত্ব ভোটারদেরও বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দানে উৎসাহিত করছেন বলে খবর। তার উদাহরণস্বরূপ কয়েকদিন আগে বিখ্যাত সব খেলোয়াড়দের নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে একটি পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল তারা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এই প্রচার করেছেন। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই সংগঠনের বেশ কিছু ক্লাব সদস্য গোপনে সিপিআইএমের প্রার্থীর হয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার ও পথসভায় ভিড় জমাতে সাহায্য করতে দেখতে পাওয়া যায়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে হঠাৎ করে কেন তারা সিপিএমের প্রচারে সাহায্য করছেন। কারণ একটাই, তারা খুব ভালো করে জানেন যদি বিজেপির হয়ে প্রচার করেন এবং বিজেপি বেশি ভোটে ওয়ার্ডগুলি থেকে জেতে তাহলে তাদের এই কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সিপিএমের ভোট বাড়ে তারা সহজেই বোঝাতে পারবেন যে যেহেতু এলাকার বিধায়ক সিপিএমের এবং সিপিএমের ভোট ব্যাঙ্ক খুব শক্ত তাই তারা ভোট বাক্সে ফল পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের অন্দরে এই চাপা ক্ষোভ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদি আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল দলের পর্যবেক্ষক ও শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি না রাখেন তাহলে তার ফল মারাত্মকভাবে তৃণমূলের বিপক্ষে ভোট বাক্সে যাবে। এরকম পরিস্থিতিতে শাসকদলের এহেন অন্তর্কলহের সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিরোধী দলগুলি। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কাউন্সিলারদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন উদ্যমে ভোট প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা। তবে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারলো বিরোধী দলগুলি তাঁর উত্তর পেতে এখনও অপেক্ষা করতে হবে রাজ্যবাসীকে।