আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ও অবহেলিত, উপেক্ষিত, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা

0
528

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- সারা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাস এর দাপটে গৃহবন্দী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কখন এই মারণ রোগ থেকে মুক্তি পাবে বিশ্ববাসীর তা সকলেরই অজানা। ভারত সরকার ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই লকডাউনের সময় স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিরন্তর।

এরই মধ্যে আজ পয়লা মে “আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস”। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, মে দিবস নামে অভিহিত। প্রতি বছর পয়লা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদযাপন দিবস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে। ১২ ঘন্টার বদলে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রক্তে ভাসা এই আন্দোলন। কিন্তু তার প্রায় ১০০ বছর অতিক্রান্ত। আজও দেশে বিভিন্ন প্রান্তে খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা গুলিতে। পাচ্ছেন না সরকারি নির্ধারিত বেতন পরিকাঠামোর কোন ছিটেফোঁটাও।

আমাদের শিল্পাঞ্চল, আসানসোল, দুর্গাপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি কারখানা রয়েছে। লকডাউন শুরুর আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী সমস্ত বেসরকারি কারখানা ও সব প্রতিষ্ঠান মালিককে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তারা তাদের কর্মচারী ও শ্রমিকদের এই লকডাউন এর সময় বেতন না কেটে তাদেরকে তাদের ন্যায্য পাওনা দিয়ে সম্মানিত করেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে। শিল্পাঞ্চল আসানসোল, দুর্গাপুর জুড়ে একাধিক কলকারখানায় চলছে শ্রমিক বিক্ষোভ। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন না পেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বহু শ্রমিকের পরিবার। সরকারি চাল, ডাল, আলুর সাহায্যে দিনগুজরান করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা আজ।

এই মহান মে দিবসের উপলক্ষে দেখা যাবে শহরের আনাচে-কানাচে বহু নেতা-নেত্রীকে বড় বড় গালভরা শ্রমিক স্বার্থের কথা বলতে। কিন্তু ওই সব নেতারাই রাতের অন্ধকারে বেসরকারি কারখানা মালিকদের সাথে গোপন আঁতাতে শ্রমিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের পকেট ভরছে ভুরিভুরি। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ সত্বেও এখনো বহু বেসরকারি কারখানার মালিকরা তাদের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা গন্ডা বুঝিয়ে দেননি। আটকে রেখেছেন তাদের ন্যায্য বেতনও । এক শ্রেণীর দালাল নেতা নেত্রীরা এই সময়ে ওই সব বেসরকারি মালিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শ্রমিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চিরাচরিত করছেন। শ্রমিক সংগঠন গুলি এখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ভরা। এখনো পর্যন্ত আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এমন কোন বড় মাপের শ্রমিক আন্দোলনের নেতা নজরে আসছে না, যে সাধারণ শ্রমিকদের কথা বলে তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করে দেবে এইসব বেসরকারি কারখানা মালিকদের কাছ থেকে। কিন্তু অনেক নেতারা আজকের দিনে বড় বড় কথা বলে শ্রমিকদের মন ভোলাতে চাইবেন শহরের আনাচে কানাচে। হায়রে কপাল শ্রমিকদের এতকিছুর পরও তারা অবাক দৃষ্টিতে ওইসব নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর শ্রমিক স্বার্থের কথাগুলি শুনবে। কবে আবার সেই সুদিন আসবে, যেদিন সত্যি করেই আমাদের রাজ্যে মে দিবস সম্মানিত হবে। যথাযথ সম্মান হবে শ্রমিকের, সম্মান হবে শ্রমের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here