১ জানুয়ারি থেকে ড্রাইভার রেখে চালানো টোটো বাজেয়াপ্ত হবে বর্ধমানে

0
604

বিশেষ প্রতিনিধি, বর্ধমানঃ- কত সংখ্যায় টোটো চলে শহর বর্ধমানে? গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়েই বা তার সঠিক সংখ্যাটা কি? এক কথায় এর জবাব নেই খোদ প্রশাসনের কর্তা – ব্যাক্তিদের কাছে। আসলে, রাজনৈতিক নেতাদের মদতে দিন কে দিন যে হারে বাড়ছে ব্যাটারি চালিত এই গাড়ীর সংখ্যা, তাতে কার্যতঃ দিশাহারা প্রশাসন। দেরিতে হলেও টনক নড়ায় এবার পরিস্থিতিতে রাশ টানতে চাইছে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক বিজয় ভারতী বলেন, “এ বছর জুলাই মাসে টোটো এবং ই-রিক্সা সংক্রান্ত একটি স্পষ্ট গাইডলাইন আমাদের কাছে এসেছে পরিবহন দপ্তর থেকে। লাগাম ছাড়া টোটো’র দৌরাত্ম কমাতে এবার সেই গাইড লাইন কাজে লাগিয়ে কাজ শুরু করছি আমরা”।
রাস্তা-ঘাটে মোটরবাইক, চার চাকার গাড়ির সাথে যখন তখন সংঘর্ষ, বাদানুবাদে জড়ায় টোটো চালকেরা। পাশাপাশি রাস্তায় গাড়ী চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাধারন জ্ঞানের অভাব থাকায়, টোটো চালকদের জন্যই সড়ক দুর্ঘটনা ও যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় অতীষ্ঠ সাধারন মানুষ থে ট্রাফিক পুলিশ। জেলা পরিবহন দপ্তরের একটি সাদামাঠা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্ধমান শহরেই সাড়ে ৬ হাজার টোটো চলে। বর্ধমান রেল ষ্টেশনে সম্প্রতি দুটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পর এই তথ্য উঠে আসে। তবে, সেই তথ্য যে আদৌ ঠিক নয়, জেলা প্রশাসনের কর্তারা তা ঠাহর করেন অচিরেই, যখন টোটো চালক ও মালিকদের সংগঠন আলাদা আলাদা করে তাদের সদস্য সংখ্যা প্রশাসনের হাতে জমা করে। জেলা শাসক জানান, “দেখা গেল, বর্ধমান শহরেই ১৪০০০ টোটো চলে, কালনা মহকুমায় ৭০০ আর কাটোয়ায় ৮০০ টোটো। শহরের রাস্তাগুলি ওই বিশাল সংখ্যক টোটো বহনের উপযোগী নয়। এখনি দরকার যান নিয়ন্ত্রন”।
জেলা প্রশাসন এই তথ্য হাতে আসার পরই তড়িঘড়ি জেলা পুলিশ কে সাথে নিয়ে যৌথ বৈঠক করে। সেই বৈঠকে স্থির হয়- পয়লা জানুয়ারির আগেই শহরের রাস্তা থেকে সমস্ত টোটো তুলে নিতে হবে। তার বদলে রাস্তায় আসবে সরকার স্বীকৃত ই-রিক্সা।
সম্প্রতি, জাতীয় সড়কে ওঠার অপরাধে বর্ধমান শহরে ২৫ টি টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়। ভেঙ্গেঁ গুড়িয়ে দেওয়া হয় পাঁচটি টোটো গাড়ীর লাইট সহ ফ্রন্ট ডেস্ক। এ নিয়ে শহরে তীব্র হৈ চৈ হয়। ট্রাফিক পুলিশ অফিসারের টোটো ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হয় সোস্যাল মিডিয়ায়। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখারজি জানান, “কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা জাতীয় সড়ক এর পুরোনো জিটি রোডে টোটো চলাচল বরদাস্ত করব না। এদের জন্য বিস্তর যানজট হয়। তাছাড়া, জাতীয় সড়কে টোটো চালানো আইন করে নিষিদ্ধ করেছে সরকার”। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের যৌথ বৈঠকের পর আমাদের সিদ্ধান্তই হয়েছে, যত্রতত্র টোটো স্ট্যান্ড করা বা পার্কিং করাও বরদাস্ত করা হবে না। এক রুটের টোটো অন্য রুটে দেখা গেলেই তৎক্ষনাৎ তাকে আটক করা হবে।” জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানান, “১ জানুয়ারি, ২০২০ থেকে জেলা জুড়ে শুধু টোটো মালিকেরাই গাড়ি চালাতে পারবেন। ড্রাইভার ভাড়া করে গাড়ি চালালেই সেই গাড়ি ও বাজেয়াপ্ত করা হবে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here