তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে জেরবার শ্রমিক ও শিল্প জীবন

0
962

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারাদেশে চলছে লকডাউন। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন মানা হচ্ছে কঠোরভাবে। তারপরও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজ্য সরকারের পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার তৈরি করে হয়। সেখানে মানুষজনদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দুঃস্থ অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চাল, আলু, ডাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের কাজে নেমে পড়েছেন।

দুর্গাপুর আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি কারখানা রয়েছে। সেই সব বেসরকারি কারখানাগুলোতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন দৈনন্দিন। কিন্তু গত মাসের ২৩ তারিখের পর থেকে বদলে গিয়েছে তাদের জীবনযাত্রা। দেশের প্রধানমন্ত্রী লকডাউনের শুরুতেই অনুরোধ করেছিলেন সমস্ত শিল্পপতিদের কাছে তারা যেন তাদের কর্মীদের সঠিক সময়ে বেতন দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই অনুরোধকে সম্মান দিয়ে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা ও কারখানা তাদের শ্রমিকদের অল্পবিস্তর বেতন হাতে দিয়েছেন যাতে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন।

গতকাল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এর একটি বেসরকারী কারখানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে সাধারণ শ্রমিকরা বেতন না পাওয়ার কারণে। জানা গেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি লৌহ শিল্প কারখানা দুর্গাপুরের বামুনারা/ বাসকোপা শিল্পতালুক এ রয়েছে। সেখানে কাজ করেন আশেপাশের অঞ্চলের খেটে খাওয়া মেহেনতি মানুষরা। লকডাউনের পর থেকেই শ্রমিকদের জীবন খুবই কষ্টের হয়ে পড়ে। কারণ তাদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাবার-দাবারের টান পড়ে তাই তারা কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানায় তাদের বকেয়া মাসের বেতন গুলি যেন তাদেরকে দেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি কারখানা তাদের বেতন এখনো পর্যন্ত দেয়নি বলে জানা গেছে। তবে সব কারখানায় যে একরকমের ব্যবহার করেছে শ্রমিকদের সাথে তা নয়। বামুনারা/ বাসকোপা শিল্পতালুকের শ্যাম স্টিল, আলকনন্দা ও সিবাম মিলটেক ইতিমধ্যেই মার্চ মাসের সমস্ত বকেয়া ৩১ দিনের বেতন দিয়ে দিয়েছেন তাদের শ্রমিকদেরকে।

অন্যদিকে এইচ আর ইস্পাত নামে একটি কারখানায় মার্চ মাসের ২৩ দিনের বেতন দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদেরকে। বাকি সব লৌহ শিল্প কারখানা গুলি ইতিমধ্যেই তাদের শ্রমিকদেরকে ২৩ দিন করে মার্চ মাসের বেতন দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু গতকাল একটি বেসরকারি লৌহ ইস্পাত কারখানার সামনে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা দাবি জানাতে থাকেন তাদেরকে মার্চ মাসের ৩১ দিনের বেতন দিতে হবে। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়ন আইএনটিটিইউসি দুটি গোষ্ঠী বামুনারা/ বাসকোপা শিল্পতালুকে এখন সক্রিয়। একটি প্রভাত চ্যাটার্জির গোষ্ঠীর এবং অন্যটি বিস্বনাথ পারিয়াল এর গোষ্ঠী ও বলে জানা গেছে। এই দুই গোষ্ঠীর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিক থেকে কারখানার মালিকরা।

এইচ আর ইস্পাতের এক কর্মী ক্ষোভের সুরে জানালেন যে আজকের যে আন্দোলন এখানে করছে শ্রমিকরা বা যে নেতারা তাদেরকে মদত দিচ্ছেন তারা সেদিন কোথায় ছিলেন যে দিনকে আমাদেরকে ২৩ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছিল। তাহলে কি একই জায়গায় আশেপাশে কারখানা থাকা সত্ত্বেও নিয়ম দু’রকমের নাকি। যে সমস্ত মালিকগণের সঙ্গে যে গোষ্ঠীর বেশি অবৈধ লেনদেন আছে বা সম্পর্ক আছে তারা তাদের মতন সেই সব মালিকগণকে সুরক্ষা দিচ্ছেন। আমাদের মতন সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এই দুই গোষ্ঠীর অন্তর্কলহে। যদিও শেষ পর্যন্ত কাঁকসা থানার পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে কথা বলার পর মালিকপক্ষ মার্চ মাসের ২৩ দিনের বকেয়া বেতন দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন শ্রমিকদেরকে। সাথে এও বলে রেখেছেন যদি সমস্ত কারখানা মার্চ মাসের ৩১ দিনের বেতন দেন তাহলে তারাও ৩১ দিনের বেতন দিয়ে দেবেন শ্রমিকদেরকে।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি এই দুই ট্রেড ইউনিয়ন গোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে কোন কারখানায় কে কাজ করবে। কোন কারখানায় কারা সক্রিয় সংগঠন চালাবে। যে কারখানার মালিকের সাথে যে গোষ্ঠীর বেশি দহরম-মহরম থাকবে সেই কারখানার মালিককের স্বার্থ শ্রমিকদের জলাঞ্জলি স্বার্থ দিয়ে সুরক্ষা দেবে। এই বিষয়ে দুটি গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ব্যাপারটি তারা এড়িয়ে যান। এক কারখানা মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানালেন যদি এইরকম ভাবে তৃণমূল কংগ্রেস আইএনটিটিইউসি ট্রেড ইউনিয়নের দুটি গোষ্ঠী শিল্পতালুক এ সক্রিয় থাকে তাহলে তাদের কারখানা চালাতে খুব অসুবিধা হবে কারণ এক যাত্রায় পৃথক ফল হবে বলে মনে করছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here