শিশু চুরির তদন্তে কাটোয়া পুলিশ, নার্সিংহোমে ম্যারাথন তদন্ত, আটক আরও দুই মহিলা

0
416

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান:- বর্ধমানের লাইফ লাইন নার্সিংহোম থেকে ১০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি নিয়ে শনিবার দুপুর থেকে ম্যারাথন তদন্ত চালালেন কাটোয়া থানার পুলিশ। এদিন দুপুর প্রায় পৌনে তিনটে নাগাদ কাটোয়া থেকে ধৃত দম্পতিকে নিয়ে পুলিশ তদন্তে আসে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই নার্সিংহোমে বাচ্চা হওয়ার বিষয়ে যথাযথ রেজিষ্টার মেলেনি। এমনকি নার্সিংহোমের নার্স, আয়া, ডাক্তারদের বিষয়েও সঠিক কোনো রেজিষ্টার পাননি এদিন তদন্তকারী অফিসার। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত ২৮ জুন সন্ধ্যে প্রায় সাড়ে ছটায় ওই শিশুর জন্ম হয়। অথচ খাতায় কলমে ওটি দেখানো হয়েছে রাত্রি দশটা। শিশুটি জন্মায় ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ। নার্সিংহোমের খাতা দেখে জানা গেছে, ওই দিন রাত্রি সাড়ে নটা নাগাদ অনুশ্রী বিশ্বাসকে নার্সিংহোমে ভর্তি দেখানো হয়েছে। এরপর সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁকে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একেবারেই নর্মাল ডেলিভারী দেখিয়ে ১০টা ৪০ মিনিটে তাঁকে বেডে দেওয়া হয়েছে বলে লেখা হয়েছে। গোটা বিষয়টিতে রীতিমত অসংগতি লক্ষ্য করে এদিন তদন্তকারী অফিসার নার্সিংহোমের সমস্ত খাতাপত্র বাজেয়াপ্ত করেন। এমনকি নার্সিংহোমের বিলিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মী মধুমিতা মুখার্জ্জী এবং ওটির দায়িত্বে থাকা সাহাদাজ খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যে অসংগতি থাকায় এদিন দুজনকেই আটক করে কাটোয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই পুলিশী হেফাজতে থাকা টেকনিসিয়ান শৈবাল রায়ের সামনে মুখোমুখি জেরা করা হবে আটক দুই মহিলাকে। একইসঙ্গে পুলিশ এদিন তদন্তে জানতে পেরেছে, ওই শিশুটি জন্মানোর পর কর্তব্যরত সিস্টার কাকলীর খোঁজ করা হলেও এদিন তিনি নার্সিংহোমে আসেননি। তাঁর খোঁজে আউশগ্রামের ধনকুড়াতেও পুলিশ খোঁজখবর নেয়। কিন্তু তার কোনো হদিশ মেলেনি। জানা গেছে, ২৮ জুন ওই শিশু জন্মানোর সময় ওই সিস্টার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর হাত থেকে রুবি সেখ এবং শিখা রায়ের হাতে শিশুটি আসে। এই দুই আয়া জানিয়েছেন, তাঁদের বলা হয়েছিল শিশুর মা আইসিইউতে আছে। পরের দিন তাঁরা প্রথম শিশুর মা হিসাবে অনুশ্রী বিশ্বাসকে দেখেন। জানা গেছে, এই দুই আয়াকে সাক্ষী হিসাবে ব্যবহার করা হতে পারে। অপরদিকে, জানা গেছে, ধৃত ওই দম্পতির বিষয়ে এলাকায় কোনো অভিযোগই নেই। এলাকায় ভাল মানুষ হিসাবেই তাঁদের পরিচিতি রয়েছে। অনুশ্রী বিশ্বাসের পিসি শাশুড়ীর মাধ্যমে শৈবাল রায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁরাই জানান, একটি কন্যা সন্তান তাঁরা চান। অন্যদিকে, জানা গেছে, কাঠের কাজ করা অনুশ্রীর স্বামী প্রদীপ বিশ্বাস সম্প্রতি বিজেপির সমর্থক হন। সম্ভবত রাজনৈতিক শত্রুতার কারণেই তাঁদের বিষয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এদিকে, এরই পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধরা পড়ার পর অনুশ্রী বিশ্বাসের মেডিকেল টেষ্ট করানো হয় কাটোয়া হাসপাতালে। সেখান থেকে জানানো হয় শেষ ১ বছরে তাঁর কোনো শিশুই জন্মায়নি। এরই পাশাপাশি ওই শিশুকে তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় অনুশ্রী বিশ্বাস রীতিমত খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বারবারই তিনি বলে চলেছেন ওই শিশু কন্যাকেই তাঁর চাই। তাতে তাঁর জেল হলেও কোনো আপত্তি নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here