করোনা আবহের অনিশ্চিয়তায় মেলনি মূর্তি গড়ার বায়না, তবুও আশা ছাড়তে নারাজ এম এ পাশ শিক্ষিকা মৃৎশিল্পী ঊষা দে

0
404

সংবাদদাতা,কাঁকসাঃ- গত ১০ বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে মূর্তি তৈরিতে সাহায্য করে চলেছেন কাঁকসার এম এ পাশ গৃহ শিক্ষিকা ঊষা দে। বছর দশেক আগে বাবা অজিত দের কাছেই মূর্তি তৈরির হাতেখড়ি তাঁর। তারপর থেকেই একের পর এক মূর্তি তৈরি করে চলেছেন ঊষা। কাঠামো বানানো থেকে কাঠামোয় মাটি দেওয়া এবং সবশেষে দেব দেবীর মূর্তিতে চক্ষু দান, সবকিছুতেই এখন পারদর্শী তিনি। তবে ঊষা ছাড়াও মূর্তি তৈরিতে পারদর্শী তার দুই দিদি চন্দ্রা ও রত্না দে এবং দাদা প্রসেনজিৎ দে। পিছিয়ে নেই তার মা হরুবালা দেবীও। প্রতি বছর পুজোর মরসুমে
মূর্তি গড়ে লাভের মুখ দেখত দে পরিবার। বিশেষ করে দুর্গাপুজো,কালীপুজো ও বিশ্বকর্মাপুজোর মূর্তির এতো বায়না হত যে পুজোর আগে বৃদ্ধ বাবাকে সাহায্য করতে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি চলে আসতেন ঊষাদেবীর দুই দিদি। দুজনেরই বিয়ে হয়েছে আসানসোলে। কিন্তু করোনা আবহে সব কিছু বদলে গেছে। পুজোর মরসুম দোড়গোড়ায়। যদিও করোনা মহামারীর জেরে এবার অনেক জায়গায় পুজো বন্ধ বা বাজেট কাটছাঁট করে চলছে পুজোর আয়োজন। অন্যবার এই সময়ে নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত থাকে না দে পরিবাবের। কিন্ত এবারে চিত্রটা একেবারেই অন্যরকম। অনিশ্চিয়তার কারণে এবার আর মূর্তি গড়ার বায়না মেলনি। আর্থিক অনটনের জন্য বর্তমানে মূর্তি তৈরির কাজ ছেড়ে ভিন জেলায় পারি দিয়েছেন ঊষাদেবীর দাদা প্রসেনজিৎ। বায়না নেই তাই এবার দুই দিদি চন্দ্রা দে ও রত্না দেরাও বাপের বাড়ি ছুটে আসেননি। সেই কারণে এবার ঝুঁকি নিয়েই বাবার সাথে ২০টি মূর্তি তৈরি করছেন ঊষাদেবী। কিন্তু সবকটা মূর্তি আদৌ বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে রীতিমতো শংকায় দিন কাটাছে দে পরিবারের। অজিতবাবু জানালেন বর্তমান পরিস্থিতে হাতে সেভাবে কাজ নেই। তারউপর জিনিসের দাম বেড়েছে। তাও লাভের আশায় মূর্তি গড়ে চলেছেন। তবে এবার বড় বাজেটের পুজো না হলেও ছোট পুজো হচ্ছে। তাই বেশীরভাগ ছোট মূর্তি তৈরি করেছেন। তবে নিরাশ হতে রাজি নন ঊষাদেবী। এম এ পাশ গৃহ শিক্ষিকার আশা দ্রুত পৃথিবী করোনা মুক্ত হবে। জনজীবন আবার স্বাভাবিক হবে। ফের বড় বড় পুজোর আয়োজন হবে। ফের মিলবে বড় মূর্তির বায়না। মাটির মূর্তি তৈরি করে ফের লাভের মুখ দেখবে তাঁর পরিবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here