অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র তালা মেরে বন্ধ করে দিল ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসিরা, বন্ধ শিশু ও মায়েদের পরিষেবা

0
482

সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ-

দিদিমনি ও সহায়িকার কাজিয়ায় শিশু ও মায়েদের সুষম খাদ্য সহ অনান্য পরিষেবা না পেয়ে অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র তালা মেরে বন্ধ করে দিল ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসিরা। আজ ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের, অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতর, বিরোহিনী গ্রামে।
ক্ষুদ্ধ বিরোহিনী গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ বেশ কয়েক দিন ধরে তাদের এলাকার ১৭০ নম্বর অংগনারী কেন্দ্রের দিদি মনি ও সহায়িকার মধ্যে মনকষাকষির জেরে কাজিয়া লেগে আছে। দিদিমনি সময় মত কেন্দ্রে তো আসেনা আবার দিদিমনি সময় মত আসেনা বলে তার সহয়িকাও দেরী করে আসে। এদিকে যথা সময়ে এলাকার বাচ্চা ও মায়েরা কেন্দ্রে এলেও এই দিদিমনি ও সহায়িকার কাজিয়ায় তারা সুষম খাদ্য তো পাচ্ছেই না উলটে খাদ্যের সামগ্রী ও চুরি হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। আর এসবের কাজিয়ার জেরে যার জন্য এই কেন্দ্র গড়া সেই শিশু বাচ্চাদের পড়াশোনা ও লাটে ওঠা যোগাড় দেখে তারা চুপ করে বসে না থেকে আজ তালা মেরে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসিরা অভিযোগ জানিয়েছেন। আমাদের দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র অংশের মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতার চেতনার লক্ষেই নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের অধিনে আইসিডিএস এর এই অঙ্গনওয়ারী প্রকল্প। মুলত প্রি-স্কুল শিক্ষা, পরিপূরক পুষ্টি, ভিটামিন এ, ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন ট্যাবলেট বিলি, সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও ইমুনাইজেশনের জন্য রেফার করা, শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে অপ্রথাগত শিক্ষা, হাইজিন প্রভৃতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এই প্রকল্পের কর্মীরা।অথচ যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রকল্প বালুরঘাট ব্লকের, অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতর, বিরোহিনী গ্রামের ১৭০ নম্বর অংগনারী কেন্দ্রের দিদিমনি ও সহায়িকার কাজিয়ায় তার পরিষেবা তলানীতে এসে ঠেকেছে। যদি ও কেন্দ্রটির দিদিমনি ও সহায়িকা দুজনেই তাদের মধ্যে চলা কাজিয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কেন্দ্রের অচলাবস্থার জানি দায়ি করেছে। অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রের দিদিমনি সুজো মহন্ত তার দেরী করে কেন্দ্রে আসার ব্যাপারটি স্বীকার করে নিয়েও বলেন সব দিন দেরী হয় না তবে আমাকে বাজার ঘাট করে নিয়ে আসতে হয় তাই দু একদিন দেরী হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমার সহায়িকার কাছে কেন্দ্রের দুটো চাবি থাকে। ঘর খোলা না পেয়ে এসে আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আর উনি এসেই ঘর খুলে ঘর পরিষ্কার না করেই রান্নার বিষয়ে ব্যাস্ত হয়ে যায়। তাকে কিছু বললে সে রাগ করে রান্নার বাসন পত্র আছড়ে ফেলতে থাকে। দিদিমনির আরও অভিযোগ গ্রামবাসিদের মত তারও অভিযোগ তিনি বার বার তার সহায়িকাকে বলেন বাচ্চাদের ঠিক মত বেশি বেশি করে খাবার দাও না হলে বাচ্চারা তাদের পুষ্টি পাবে কি করে। সেকথা বলতে গিয়েই তার সাথে ঝগড়া লেগে যায়। পাশাপাশি তার অভিযোগ তিনি পর্যাপ্ত পরিমানে জিনিষপত্র নিয়ে আসলেও তা সরিয়ে ফেলা হয়। অপরদিকে সহায়িকা সুজলা বর্মন রায় দুজনের মধ্যে মনকষাকষির ব্যাপারটি মেনে নিয়ে পালটা দিদিমনির কাধে দোষ চাপিয়ে বলেছেন দিদিমনি একদিকে যেমন দেরী করে আসে অন্যদিকে আবার তাড়াতাড়ি চলেও যায়। তাই একা হাতে বাচ্চাদের পড়ানো থেকে রান্নাবাড়ি করে সব দিক তিনি একা কখনও কখনও পেরে ওঠেন না। তার আর ও স্বীকারোক্তি যে কাজ করে তার তো ভুল হয়। আমার ও তেমন কাজ করতে কিছু ভুল হলেও হয়ে থাকতে পারে। যদিও ওই গ্রামের মেম্বার বিপুল বর্মন জানিয়েছেন দিদিমনি ও সহায়িকার একে অপরের সাথে নিত্যদিনের কাজিয়ায় কেন্দ্রের সুষ্ঠ পরিষেবা পাওয়া নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুদ্ধ। এর আগেও আমরা বিষয়টা বিডিওকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোন ব্যবস্থ্যা তারা নেয় নি। কিন্তু এদের দুজনের ঝগড়ায় শিশুদের পড়া শোনা তো প্রায় বন্ধ থাকার পাশাপাশি কাল কেন্দ্রের রান্নার থেকে ডিম চুরি যাওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠায় আজ আমরা ওই তালা মেরে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। যতক্ষন না ওপরতলার কোন আধিকারিক এসে এদের কাজিয়া মিটিয়ে সুষ্ঠ পরিষেবা দেবার ব্যবস্থ্যা করছে ততক্ষন তারা কেন্দ্রটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি বলে তিনি অভিযোগ জানান। এখন দেখার কবে এই দুই জনের কাজিয়া মিটিয়ে আবার কেন্দ্রয়ি থেকে এলাকার মা ও শিশুদের জন্য সুষ্ঠ পরিষেবা শুরু করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here