রেশন কার্ড বিভ্রান্তিতে দুর্দশায় পুরুলিয়ার ঝালদার পাটমাডি গ্রামের বাসিন্দারা

0
281

সংবাদদাতা,পুরুলিয়াঃ- ঝালদা ১নম্বর ব্লকের ঝালদা দড়দা অঞ্চলের অন্তর্গত ছোট্ট গ্রাম পটমাডি। পাহাড় সংলগ্ন গ্রামটিতে ৩০ থেকে ৩৫ টি সাঁওতাল পরিবার বসবাস। টুকটাক চাষবাস এবং জঙ্গল থেকে কাঠ এনে দিন গুজরান করে গ্রামবাসীরা। কিন্তু ২০১৯ সালে ডিজিটাল রেশন কার্ড হওয়ার সময় গ্রামের সবাই RKSY-2 রেশন কার্ড পায়। এপ্রিল মে জুন মাসে লকডাউন থাকার সময় যথেষ্ট চাল-গম পেলেও জুলাই মাস থেকে কার্ড পিছু মাসে ১ কেজি চাল ও ১ কেজি গম মিলছে। ফলে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীরা জানায় ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ও ফুড ইন্সপেক্টর মহাশয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্ত রেশন কার্ডের পরিবর্তন হয়নি তাদের।
খেটে খাওয়া মানুষ গুলি ট্রেন চলছে না বলে বাইরে যেতে পারছে না। আবার গ্রামেও কাজও পাচ্ছে না। তাই সংসার চালানোর দায় হয়ে পড়েছে পরিবারগুলির।
রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার বারেবারে ঘোষণা করছে সাধারণ মানুষের খাবারের অভাব হবে না। কিন্তু পটমাডি গ্রামের বাসিন্দারা তার ব্যতিক্রম। তারা জানেনা কবে তাদের রেশন কার্ডের পরিবর্তন হবে এবং প্রয়োজনমতো রেশন পাবে। চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের।এমনকি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাও বন্ধ হতে বসেছে দারিদ্র্যতার কারণে।সেই খবর পাওয়ার পর কুটিডি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অরুপ কুমার গোপ মন্ডল ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলেন। গ্রামবাসীদের দুর্দশার কথা তিনি কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী মনিকা সেনগুপ্ত ও চৈতালি রায় মহাশয়কে জানান। তাদের আর্থিক সহযোগিতায় পটমাডি গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বই খাতা ও কলম।
কিন্তু গ্রামবাসীদের একটাই প্রশ্ন কবে তাদের রেশন কার্ড পরিবর্তন হবে। কবে তারা আবার পর্যাপ্ত রেশন পাবে। প্রশাসন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুভানুধ্যায়ী প্রত্যেকের কাছেই গ্রামবাসীদের অনুরোধ তাদের জন্য কিছু করা হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here