লকডাউনের জেরে পাইকাররা না আসায় মহুয়া ফল বিক্রি করতে পারছে না জঙ্গল লাগোয়া গ্রামবাসীরা ফলে আর্থিকভাবে সংকটের মুখে

0
462

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের অন্যতম বনজ সম্পদ মহুল বা মোল । স্থানীয়রা অবশ্য মোল বলেই জানে । মোল সংগ্রহ করে এই জেলার বিষ্ণুপুর , জয়পুর , রায়পুর , সারেঙ্গা সহ সোনামুখীর কয়েকশ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জীবন ধারন করেন । সাতসকালে সোনামুখীর জঙ্গলঘেড়া মাচডোবা , মৌরাশলি , শিবেরবান্দ এলাকায় দেখা পাওয়া গেলো লক্ষ্মণ রায় ও গীতা সেনাপতির সঙ্গে । একটা ঝুড়ি নিয়ে মহুল গাছের তলায় একমনে মহুল সংগ্রহে ব্যাস্থ । জঙ্গল মহলে চাষাবাদ কম হয় , একশ দিনের কাজও সেভাবে হচ্ছে না । তাই সংসার চালানোর জন্য এইসময় দেড়মাস মহুল সংগ্রহ করে অর্থ উপার্জন করেন । এই মহুল তারা বাইরে থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকেন । বাড়িতে খাবার হিসাবেও ব্যবহার করে মহুল ।

বাড়ছে চোড়া শিকারী তাই কমতে শুরু করেছে মহুল গাছের সংখ্যা । সাধারণত এই গাছ কুড়ি মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় । হলুদ রঙের এই ফলে প্রচুর পরিমানে শর্করা , খনিজদ্রব্য , ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে । গ্রামবাংলার মানুষ বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার রান্না করার পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবেও ব্যবহার করে থাকেন তারা । মহুয়া তেল থেকে চামড়ার বিভিন্ন রোগের ঔষধও তৈরী হয় ।

বাঁকুড়ার বিভিন্ন জঙ্গলে সাম্প্রতিক কালে বাঘের আতঙ্ক তৈরী হয়েছে , বেড়েছে হাতির দৌরাত্ম্য । কিন্তু তা সত্যেও পেটের তাগিদে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে মহুল সংগ্রহ করতে হয় গীতা সেনাপতি লক্ষ্মণ রায়ের মত দিন আনি দিন খাই মানুষগুলোর । মহুল সংগ্রহ করতে না পারলে টান পড়বে দৈনন্দিন সংসার চালানোর খরচে ।

এত কষ্টকরে মহুল যোগার করলেও তারা ন্যায়্য দাম পাচ্ছেন না । কিন্তু অন্যান্য রাজ্যে এই মহুলের চাহিদা রয়েছে প্রচুর ।
জঙ্গল মহলের এই মানুষগুলোর দাবি সরকার কেন্দুপাতা সহ অন্যান্য বনজ সম্পদের নির্ধারিত মূল্য যেমন ঠিক কেরছেন , সেইভাবে মহুলের ক্ষেত্রেও যদি এই প্রনথা গ্রহন করা হয় তাহলে তারা আশার আলো দেখতে পাবেন । কিন্তু তার উপর এবছর লকডাউন এর জেরে আরো বেশি করে সমস্যায় পড়তে হয়েছে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামবাসীদের । এই মুহূর্তে বাইরে থেকে পাইকার আসছে না ফলে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে আরো বেশি ।

গীতা সেনাপতি লক্ষ্মণ রায় রা বলেন , লকডাউন এর জেরে বাইরে থেকে পাইকাররা না আসায় মহুয়া ফল বিক্রি করতে পারছি না ফলে আর্থিকভাবে সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে । সারাবছর এই দেড় দুমাস মহুয়া ফল বিক্রি করে দুটো বাড়তি পয়সা রোজগার হয় কিন্তু এবছর তা আর হচ্ছে না । তাদের এইরকম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here