১৫ জন গ্রামবাসীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামে রক্ষাকালী পুজো শুরু

0
460

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, মঙ্গলকোটঃ- জন্মালে মরতেই হবে- এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একটা ছোট্ট গ্রামে একবছরের মধ্যে পনেরো জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটলে গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হবেই এবং মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত মানুষ তখন বাঁচার জন্য পথ খুঁজবেই। সেই পথ ধরেই শুরু হয় পুজো-পার্বণ। এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মঙ্গলকোটের চাণক অঞ্চলের মাঠগোবিন্দপুর গ্রামে।

গ্রাম সূত্রে জানা যাচ্ছে – গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় আড়াইশত। বছর পাঁচ-ছয় আগে এক বছরে গ্রামে পনেরো জন সুস্থ মানুষ হঠাৎ কলেরা, সর্পদংশন, বিষক্রিয়া, হৃদরোগ প্রভৃতিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মৃত্যু ভয়ে ভীত গ্রামের কেউ কেউ বাড়িতে শান্তি-যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত এলাকার সুপরিচিত পুরোহিত আনন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মত সমগ্র গ্রামবাসীর মঙ্গলের জন্য ব্যক্তিগত পুজোর পরিবর্তে গ্রামে শুরু হয় রক্ষাকালী পুজো।

সাধারণত চৈত্র মাসের কুড়ি তারিখের পর যেকোনো শনি বা মঙ্গলবার এই পুজো হয়। প্রথমে তালপাতায় তৈরি ঘরে পুজো হতো। বর্তমানে গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে মন্দির তৈরি করেছে। গত ৬ ই এপ্রিল দিনের বেলায় সেই নতুন মন্দিরের উদ্বোধন হয় এবং সন্ধ্যায় হয় পুজো। শুধু গ্রামবাসীরা নয় আশেপাশের জোঙ্গল, পালিগ্রাম, চাণক, সালন্দা সহ পাঁচ-ছয়টি গ্রামের মানুষও পুজোয় অংশগ্রহণ করে। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বর আলোর মালায় ঝলমল করে ওঠে। আত্মীয়স্বজনের আগমনে গোটা গ্রাম ভরে ওঠে। এখন তো দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসে। করোনার জন্য গতবছর পুজো বন্ধ থাকলেও এবছর মহাধুমধাম সহকারে পুজো হয়। প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ‘মচ্ছব’-এ অংশগ্রহণ করে।

গ্রামের বাসিন্দা চিন্তা ঘোষ বললেন – আমরা ছাপোষা মানুষ। ছেলেপুলে নিয়ে ঘর-সংসার করি। এধরনের মৃত্যু হলে ভয় তো লাগবেই। তাই মায়ের শরণাপন্ন হয়েছি। মায়ের কৃপায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। একই সুর শোনা গেল গ্রামের অরিজিৎ মণ্ডল, নির্মল মণ্ডল, বাসুদেব ঘোষ, বাসুদেব পাল, ভুতনাথ মণ্ডল, কৃষ্ণা পালদের কণ্ঠে। যার পরামর্শে রক্ষাকালী পুজো শুরু হয় সেই আনন্দ বাবু বললেন – সবই বিশ্বাসের ব্যাপার। মায়ের পুজো করে গ্রামবাসীরা যদি সুস্থ থাকে তাহলে আপত্তি কোথায়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here