সরকারি নির্দেশিকা কে বুড়ো আঙ্গুল, রমরমিয়ে চলছে অধিকাংশ ইটভাটা, খোলা বাজার ও দোকানপাট

0
505

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- লকডাউনের ঘোষনাই সার। প্রশাসনের নির্দেশিকা কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাঁকুড়ার মেজিয়া বাজারে মানুষের দেদার আনাগোনা ,খোলা রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। লক ডাউনের কারণে ইটভাটা গুলি  বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ইট ব্যবসায়ীরা রমরমিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যবসা । অন্যদিকে ব্যাংক ও ব্যাঙ্ক মিত্র গুলিতে সামাজিক দূরত্ব না মেনেই রয়েছে গ্রাহকদের লম্বা লাইন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনা ঠেকাতে রাজ্য জুড়ে চলছে লকডাউন। লকডাউনে বেশ কয়েকটি অতি প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে কেই বা মানে? বাঁকুড়ার মেজিয়া বাজারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়োআঙ্গুল দেখিয়ে খোলা রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। বেশিরভাগ দোকানপাট খোলা থাকায় মেজিয়া বাজারে মানুষের আনাগোনাও বাড়ছে দিনের পর দিন। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলছে দেদার মেলামেশা। স্থানীয়রা বলছেন লকডাউনের প্রথম কটা দিন মেজিয়া বাজারের এই চিত্র না চোখে পড়লেও ধীরে ধীরে মেজিয়া বাজারে মানুষের জমায়েত বাড়তে শুরু করে। ব্লক প্রশাসনের নজরদারিকেই দায়ী করেছেন তারা। অন্যদিকে মেজিয়ার সবকটি ব্যাংক গুলিতেও মানুষের লম্বা লাইন। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে টাকা লেনদেনের কাজ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জনধন যোজনা ও উজালা যোজনার টাকা তুলতেই গ্রাহকদের ভিড়। আর এই নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মেন্টর অরুপ চক্রবর্তীর দাবি কেন্দ্রীয় সরকার জনধন যোজনার গ্রাহকদের একাউন্টে ৫০০ টাকা দিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের ভিড় লাগিয়ে করোনা সংক্রামক কে বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার এমনই দাবি বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মেন্টর অরুপ চক্রবর্তীর। অন্যদিকে তৃণমূলের এই প্রতিক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি  সাংসদ সুভাষ সরকার। সাংসদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এই টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না তুললে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ফের কেটে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার এমনই গুজব ছড়িয়েছে তৃণমূল। যার ফলে সাধারণ মানুষ করোনা আতঙ্ক কে উপেক্ষা করে ভিড় জমাচ্ছেন ব্যাঙ্ক গুলিতে।
সরকারি নির্দেশিকায়  ইটভাটা গুলি বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বন্ধ হয়নি মেজিয়ায় সবকটি ইটভাটা। প্রশাসনের নির্দেশিকা কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছে ইট ব্যবসা। স্থানীয়দের দাবি এই বিষয়গুলিকে নজরে রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন। যদিও ব্লক প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের।
যদিও ইটভাটা বন্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন বলে জানিয়েছেন অর্ধগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মলয় মুখার্জি। তিনি জানান খুব শীগ্রই প্রশাসনের সামনে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানাবেন তিনি। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিভাবে চলছিল মেজিয়া ব্লকের প্রায় ১৫ টির মতো ইটভাটা। তাহলে কি স্থানীয়দের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগই কি সত্য বলে প্রমাণিত হলো? করোনা ঠেকাতে কি মেজিয়া  ব্লক প্রশাসন লকডাউন শুধু খাতা-কলমেই রাখবে নাকি করোনা ঠেকাতে  নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে প্রশাসন? সেটা অবশ্য বলবে সময়ই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here