জল বিদ্যুতের জল ? তিনদিনেও দামোদরের স্রোত রুখতে ব্যর্থ সেচ দফতর

0
442

বিশেষ প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ- টানা তিন দিনেও দামোদরের নূন্যতম জলস্রোত রুখতে ব্যর্থ সেচ দপ্তর আর তৃতীয় দিন থেকেই জলসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে দুর্গাপুরে। যার ধাক্কায় আগের আশঙ্কা মতোই ধাপে ধাপে দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হল ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

শনিবার ভোরে ৩১নং লকগেটটি ভাঙে দুর্গাপুর ব্যারাজে। সেই থেকে এখনও ভাঙা লকগেটের বদলে আলাদা একটি নতুন লকগেট বসানোর কাজই শুরু করতে পারেনি সেচ দফতর। দফতরের সচিব গৌতম চট্টোপাধ্যায় সোমবার ব্যারাজ পরিদর্শনের পর জানান, ” আজ রাত্রি ৯ টার মধ্যে জলস্রোত ঘুরিয়ে দিলে , কাল সকাল থেকে ভাঙা লকগেটটি সারানোর কাজ শুরু হবে। বসানো হবে নতুন একটি লকগেট। যার জন্য অন্তত ২০ ঘণ্টা সময় লাগবে। “অর্থাৎ বুধবার রাতেও শহর তথা কলকারখানায় জল সরবরাহ করা সম্ভব বলে নিশ্চিৎ নন খোদ বরিষ্ঠ আধিকারিকরাই।

রবিবার রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব নবীন প্রসাদের পরিদর্শনের সময় ৩১ নম্বর লকগেটটি বালির বস্তার দেওয়াল তুলে জলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু হয়। বিকালের দিকে আচমকা জলের তোড়ে বস্তাগুলি ভেসে যায়। “ঘটনার পরই মাইথন, পাঞ্চেৎ জলাধার থেকে জল ছাড়া বন্ধ করা হয়। তা সত্ত্বেও গতকাল বিকালে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সব কাজ পণ্ড হয়ে যায়।” বললেন দামোদর হেডওয়ার্ক ডিভিসনের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার সঞ্জয় সিং। তিনি বলেন,”আমাদের হিসেব অনুষায়ী প্রায় ১২০০ কিউসেক জল আসছে। পরে আমরা বুঝতে পারি সম্ভবত মাইথন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবহৃত জল ওপর থেকে নেমে আসছে।”

মাইথন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে ২০ মেগাওয়াট করে ৩টি ইউনিট রয়েছে দামোদর থেকে ১২ কিমি ওপরে বরাকর নদীর ওপর। মাইথনের ডিভিসির জনসংযোগ আধিকারিক অপূর্ব সাহা বলেন , “আমাদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বোচ্চ ৪৫০০ কিউসেক হারে জল ব্যবহার করে। তবে, দুর্গাপুর ব্যারাজ বিপর্যের পর সেটিও বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজেই, আমাদের তরফ থেকে আলাদা করে জল ছাড়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়।”

সোমবার দিনভর বালির বাঁধ তোলার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ করার পর সেচ দফতরের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার এক ঠিকাদার সংস্থার হাতে লকগেট বসানোর কাজ তুলে দেওয়ার কথা। রাত্রি সাড়ে আটটা পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। সেচ দফতরের সচিব গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ” ৩১ নং লক গেটের সামনে ৭২০০ ঘনমিটার জল জমে আছে। পাম্প লাগিয়ে সেটা সরানোর পর বালি আর পাঁক তুলে তবেই লকগেট খোলার কাজ শুরু করা যাবে।”

এদিকে শহরে জলের তীব্র সংকটের দরুণ সোমবার দুপুরে দুর্গাপুর নগর নিগমে জরুরি বৈঠক হয়। নগর নিগমের নিজস্ব ২৮ টি ট্যাঙ্কারের পাশাপাশি ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডস ও দুর্গাপুর ইস্পাতের কাছ থেকে আরও ২০টি ট্যাঙ্কার ধার নেওয়া হয়। দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি বলেন, ” শহরের বেশকিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই ট্যাঙ্কার সরবরাহ চালু হয়েছে।”

ইস্পাত নগরীতে দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষ সোমবার দুপুরে একপ্রস্থ স্বল্প সময়ের জন্য জল সরবরাহ করে ওয়াটার ওয়ার্কস থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here