অভিযোগ দুর্গাপুর পুরসভার জল দূষিত, সাবধানে ব্যবহার করার বিজ্ঞপ্তি সি.এম.আর.আই. কর্তৃপক্ষর নিজেদের আবাসিকদের

0
3183

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা দেশজুড়ে চলছে করোনা আতঙ্ক। মানুষজন করোনা সংক্রমণের ভয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন। করোণা আক্রান্তের সংখ্যা দেশে তথা রাজ্যের দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে কোন পথ খোলা না থাকায় তারা নিজেদেরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মানুষজনের ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের সাহায্যের পথে নেমে পড়েছেন। শহর দুর্গাপুরে করোণা সংক্রমনের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর এক এলাকাকে সংক্রমিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যেই শহর দুর্গাপুর থেকে বহু মানুষ করোনা সংক্রমিত হয় দুর্গাপুরের একমাত্র কোভিড হাসপাতালে সনকায় ভর্তি রয়েছেন।

এরইমধ্যে দুর্গাপুরের কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ সংস্থার সি.এম.আর.আই কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গতকাল তাদের নিজেদের সমস্ত নাগরিকদের জানিয়েছেন তাদের এলাকায় দুর্গাপুর পৌরসভা যে জল তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন সেই পানীয় জল পরিশ্রুত নয়। তাদের নিজেদের পরীক্ষাগারে সেই জল দূষিত বলে জানা গেছে। তাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তাদের এলাকায় বসবাস করা সমস্ত নাগরিকদেরকে সাবধানে ওই জল ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তারা দুর্গাপুর পৌরসভাকে বিজ্ঞপ্তি টি তে জানিয়েছেন যে পরিশ্রুত পানীয় জল যাতে তাদেরকে দেওয়া হয় তাদের কলোনিতে।

অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরের অধিকাংশ জল শোধনাগারগুলি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না । এছাড়াও জল পরিশোধনের উপাদান গুলিও উপযুক্ত মাত্রায় ব্যবহার করা হচ্ছে না। অতএব যথাযথভাবে পরিশ্রুত হচ্ছে না শহরবাসীর পানীয় জল। কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্তৃক করা সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, জলের পিএইচ মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রার একেবারে চরমসীমায় রয়েছে। পানীয় জলের মধ্যে ই-কোলাই জীবাণু এবং কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। করোনার সাথে সাথে জল বাহিত রোগেও শহরবাসী আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

এই রিপোর্টের খবর প্রকাশিত হতেই আগুনের মতন তা ছড়িয়ে পড়ে শহরবাসীর মধ্যে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শহরবাসী। তবে এখনো পর্যন্ত দুর্গাপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো এই বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়নি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ সি.এম.আর.আই সংস্থার এই রিপোর্ট কতটা গ্রহণযোগ্য সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here