বিষ্ণুপুর যদুভট্ট মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাঁকুড়া জেলা শাখার ৪১ তম জেলা সম্মেলন

0
654

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাঁকুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে বিষ্ণুপুর যদুভট্ট মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো বাঁকুড়া জেলা শাখার ৪১ তম জেলা সম্মেলন। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাকে কিভাবে আরও উন্নত করতে এই জেলা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আজকের অনুষ্ঠানের মূলত আলোচ্য বিষয় ছিল, ১: প্রাথমিকের পাঠ্যবই শিশুদের উপযোগী করতে হবে একটি বইয়ে সব বিষয় না রেখে আলাদা আলাদা বই করতে হবে। ২: তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বিদ্যাসাগর, মাতঙ্গিনীর জীবন ফিরিয়ে আনতে হবে। ৩: ইংরেজি বই পাঠক্রমকে সহজ সাধ্য করে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। ৪: সিলেবাস কমিটিতে শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে। ৫ : প্রাথমিকে পুনরায় প্রথম শ্রেণী থেকে পাশ ও ফেল প্রথা চালু করতে হবে। ৬: প্রধান শিক্ষকের পদ খালি হওয়ার সাথে সাথে তা পূরণ করতে হবে। ৭: প্রতিটি বিদ্যালয়ে শ্রেণী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ৮: যে সমস্ত বিদ্যালয়ে পড়াশুনার অসুবিধা হচ্ছে সেই সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ৯: কম ছাত্র-ছাত্রী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছাড়াও দুজন শিক্ষক কমপক্ষে রাখতে হবে। ১০: প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার দিতে হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই ধরনের মোট ২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়। আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর পৌরসভার পৌরপিতা শ্যাম মুখার্জী, পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মন্ডল, বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনিমা বাউরী সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বাঁকুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিনোবন্ধু ভূষণ বলেন, আমরা এডুকেশন নিয়ে কাজ করি। এডুকেশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট আমরা গ্রহণ করে থাকি। এবছর একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষক অভিমুখ ও এখন মানুষের হাতে যেভাবে টিভি গ্যাজেট বিষয়গুলো এসে গেছে সেগুলো কে সাথে নিয়ে কি করে এডুকেশনটাকে কমপ্লিট করতে পারি এস ডি জি বোল ফোরে যা যা বলা আছে সেই জায়গা আমরা কি করে পৌঁছাতে পারি তাই নিয়েই আমাদের আজকের আলাপ-আলোচনা চলছে। এই আলোচনা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়ে করা হবে বলে তিনি জানান। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক নিমাই নিমাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, সমস্ত মানুষের উপকারের জন্য বিশেষত শিক্ষাব্যবস্থাটাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের মধ্যে একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে এটা আমাদের উদ্দেশ্য। একদিকে আমরা যেমন শিক্ষকদের স্বার্থ সমন্বিত কাজগুলো করে থাকে, ঠিক সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার স্বার্থে সম্মুখ কাজগুলো করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য মধ্যে পড়ে। যেহেতু ভারতবর্ষে এমনকি পশ্চিমবঙ্গে একটি মাত্র শিক্ষক সংগঠন তারা অরাজনৈতিক তার নাম পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পরবর্তী একটা বছর আমাদের কিভাবে চলতে হবে সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here