দুর্গাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িযালের ভবিষ্যৎ কি হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে?

0
2571

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- হাতে গোনা আর মাত্র নয়টা মাস বাকি ২০২১ সাল আসতে। তারপরই শুরু হয়ে যাবে বিধানসভা নির্বাচনের তোড়জোড়| ২০১৬ তে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাথে সিপিএমের জোট হয়। সেই জোটের শর্ত অনুসারে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেয় সিপিএম আর দুর্গাপুর পুর্ব আসনটি সিপিএমকে ছেড়ে দেয় কংগ্রেস। তাতেই বড় সাফল্য পায় জোট। ফলে ঘাসফুল শূন্য হয়ে যায় দুর্গাপুরে।

আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় জোটের শর্ত অনুযায়ী সিপিএম কি এবারও দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেবে? দুর্গাপুরে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন উঠার পাশাপাশি এখন লক্ষ টাকার প্রশ্ন ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জোটের বিজয়ী প্রার্থী কংগ্রেসের বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িযালের ভবিষ্যৎ ২০২১ বিধাসভা নির্বাচনে কি হবে?
এক কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল টিকিট না দেওয়াই প্রচন্ড হতাশায় ভেঙে পড়েন বিশ্বনাথ পাড়িয়াল| যেভাবেই হোক, যেকোনো উপায়ে হোক, যেকোনো রাজনীতি দলের টিকিট পাওয়াটাই বিশ্বনাথবাবুর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়| সেই অনুযায়ী তৎকালীন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর শরণাপর্ণ হন| শেষ পর্যন্ত অধীরবাবুর দয়াতে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে জোটের কংগ্রেস প্রার্থী করা হয় বিশ্বনাথকে| পরবর্তীকালে সেই বিশ্বনাথ পাড়িয়াল নীতিগত এবং নৈতিকগত ভাবে কংগ্রেসের বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ না করেই তৃণমূলে যোগ দেন| এবং তৃণমূলের আই.এন.টি.টি.ইউ.সি’র জেলা সভাপতি পদ আঁকড়ে ধরেন| এহেন বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস টিকিট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না|
পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি তরুণ রায় বলেন, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে প্রার্থী করার বিষয়ে অধীরবাবু বড় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন| তখন দুর্গাপুর তথা জেলার একনিষ্ঠ কংগ্রেসিদের কথা শোনেননি অধীরবাবু| আমি নিজে অধীরবাবুকে বলেছিলাম বিশ্বনাথকে প্রার্থী না করার জন্য| তরুণ রায় বলেন, যোগ্যতম কংগ্রেসিদের বঞ্চিত করে, যার কংগ্রেসের নূন্যতম সদস্য পদ নেই এবং যে সেইসময় রানিং তৃণমূলের কাউন্সিলর আর তাকেই বিধানসভার কংগ্রেসের টিকিট দিয়ে দেন অধীরবাবু| বিশ্বনাথের ড্রামায় ভিজে গিয়েছিলেন অধীরবাবু| ও কতবড় ড্রামাবাজ সেটা আমি জানি| অবশ্য অধীরবাবু পরে বুঝতে পারেন তিনি কি ভুল করেছেন|
এক সিপিএম নেতা বলেন, ২০১৬ নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি সিপিএম নেতৃত্ব ছাড়তে চায়নি| সিপিএমের হয়ে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছিলো| কিন্তু অধীরবাবু সরাসরি রাজ্য নেতৃত্ব বিমান বসুকে অনুরোধ করেন দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি জোট কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য| সেই অনুযায়ী বিমানবাবুর নিৰ্দেশ মেনে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় দুর্গাপুরের সিপিএম নেতৃত্ব|
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কিছু বিক্ষুব্দ তৃণমূলের ভোট এবং বৃহৎ সংখ্যক সিপিএমের ভোটেই জিতেছিল বিশ্বনাথ পাড়িয়াল|
এখন সেই লক্ষ টাকার প্রশ্ন, এবার বিশ্বনাথ বাবুর কি হবে? ২০২১ সালে নির্বাচনে তৃণমূল কি বিশ্বনাথবাবুকে টিকিট দেবে? এখনো পর্যন্ত জেলা তৃণমূলের কেউ এব্যাপারে কিছু বলতে পারছেন না| দলনেত্রী তাকে আই.এন.টি.টি.ইউ.সি’র জেলা সভাপতি করে দেওয়ার পরও হালে পানি পাননি বিশ্বনাথবাবু| অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২০১৭ সালে দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনে তাকে দশটি কাউন্সিলর সিট দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু আই.এন.টি.টি.ইউ.সি’র সভাপতির রথ থেমে যেতে থাকে| ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বলা হয় নির্বাচনের পর পুরোদমে ট্রেড ইউনিয়ন সামলাবে বিশ্বনাথ| কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর চিত্র এক বিন্দু বদলায়নি| আবার এই সেই দিন সিএএ, এনআরসি বিরোধী প্রচারে এসে দলনেত্রী বিশ্বনাথকে পাশে নিয়ে বার্তা দিয়ে যান ট্রেড ইউনিযন সামলাবে বিশ্বনাথ| কিন্তু তাসত্বেও পরিস্থিতি যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে যায়| কয়েকদিন আগে নবান্নে ট্রেড ইউনিয়নের বৈঠক হয়| অভিযোগ, সেখানে বিশ্বনাথ গেলে তাকে গেটে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি| দুর্গাপুরে এক তৃণমূল নেতা বলেন, রাজ্য আই.এন.টি.টি.ইউ.সি’র এক নেতা বিশ্বনাথকে সহ্য করতে পারেন না| তার ফলেই এমন অবিচার করা হচ্ছে বিশ্বনাথের সঙ্গে| এদিকে, দুর্গাপুর-আসানসোলের বেশকিছু তৃণমূল নেতার পাশাপাশি জিতেন্দ্র, দিলীপ থেকে শুরু করে অপূর্ব, জহর, পবিত্র, উত্তম, প্রভাত সহ কেউই মেনে নিচ্ছেন না বিশ্বনাথকে| কিন্তু কেনও মেনে নিচ্ছেন না তা পরিষ্কার নয়| এই জটিল অংকের পরিস্থিতিতে ২০২১ নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট কি পাবে বিশ্বনাথ? দলনেত্রী যদি তাকে বলে- তুমি যেকোনো একটা পাবে| বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট নেবে না আই.এন.টি.টি.ইউ.সি’র সভাপতি নেবে? তখন বিশ্বনাথবাবু কি সিদ্ধান্ত নেবেন? কারণ এখন যা অবস্থা তাতে বিশ্বনাথবাবু যে দলের টিকিটে দাঁড়ান না কেনো নির্বাচনে জেতা আর এতো সহজ হবেনা| এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল| তাহলে আগামীদিনে বিশ্বনাথবাবুর কি হবে|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here