আপনি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাহলে সংকটমোচন সেই শ্রী হরিকে স্মরণ করুন

0
997

সঙ্গীতা চৌধুরী, বহরমপুর:- আপনি কী খুব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন? বুঝতে পারছেন না এই মুহূর্তে আপনি কি করবেন? একের পর এক শোক এসে আপনার জীবনকে তছনছ করে দিচ্ছে? আমার এই প্রতিবেদনে আমি বলব এই মুহূর্তে আপনার কি করা উচিত।

আপনি যদি সত্যি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে থাকেন তাহলে সংকটমোচন যিনি করেন সেই শ্রী হরিকে স্মরণ করুন। ঘুম থেকে ওঠার পর একবার সেই জগৎপালক এর নাম করুন আর ঘুমোতে যাওয়ার আগেও একবার তাঁর নাম উচ্চারণ করে তারপর ঘুমোতে যান। আপনার সংকট অবশ্যই কেটে যাবে। কৃষ্ণ হচ্ছেন ভক্তবৎসল। ভক্তের কষ্ট তিনি কখনোই সহ্য করতে পারেন না। ভক্তের কষ্টকে লাঘব করতে তিনি নিজেই সমাধান রূপে আসেন।

কৃষ্ণ হলেন জগতের নাথ। ভক্তেরা আকুল কন্ঠে শুদ্ধচিত্তে তাকে ডাকলে তিনি অবশ্যই পরিত্রান করবেন। শ্রী কৃষ্ণ কী ভাবে তার ভক্তদের কৃপা করেন জানেন? কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হয়ে ওঠেন?কোন পথে ভগবান পরীক্ষা নিয়ে থাকেন তাই আজ বলবো। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-“যে করে আমার আশ/করি তার সর্বনাশ/তবু যদি না ছাড়ে আশ/হই তার দাসের দাস -অর্থাৎ যিনি কৃষ্ণ কে কামনা করেন বা কৃষ্ণ কে পাওয়ার অভিলাষ করেন, কৃষ্ণ প্রথমে তার সর্বনাশ করে তার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এরপর ও যদি কেউ কৃষ্ণকে পাওয়ার আশা করে কৃষ্ণ তখন সেই ভক্তের দাসের ও দাস হন। যেমন শ্রীরাধা রানী শ্রীকৃষ্ণের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত। কেউ যদি রাধারাণীর কৃপা লাভ করে সে খুব দ্রুত ই কৃষ্ণকে পেয়ে থাকেন। আবার মহাভারতের পঞ্চপান্ডব কে কত খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তবুও তারা কৃষ্ণকে ছাড়েননি। চরম সংকটের মধ্যেও দ্রৌপদী কৃষ্ণের নাম নিয়েছেন। কুন্তি বলেছিলেন একবার-আমাকে যদি আরো কষ্ট পেতে হয় তাহলে আমি আরো কষ্ট পেতে রাজি কিন্তু তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।কৃষ্ণ তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না তার পরিবর্তে তুমি আমাকে আরো কষ্ট দাও। এরা শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। যখন কেউ শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হয়ে ওঠেন তখন তার মধ্যে আর কোন কষ্ট থাকে না। ভক্তের সকল কষ্ট কৃষ্ণ নিয়ে নেন। তাকে হরি বলা হয় কারণ তিনি হরণ করেন। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ হরণ করেন আমাদের মনকে ও হরণ করেন। তাই যদি আপনি খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে থাকেন তাহলে বলব এইটাই আপনার সময় কৃষ্ণ নাম করার। অনেক মানুষ এমন আছে যারা জীবনের শোক-তাপ পেয়ে ঠাকুরের-মূর্তি ফেলে দেয়। অনেকে এমন আছে যারা শোক তাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঠাকুর কেই আঁকড়ে ধরে। যারা জীবনের যন্ত্রণার মধ্যেও শ্রীকৃষ্ণের চরণ কে আঁকড়ে ধরেন হরিনাম করেন তারা খুব শীঘ্রই নিজেদের সমস্ত সংকট কাটিয়ে উঠবেন-এটি শুধুমাত্র আমার বিশ্বাস নয়। নিজের সমগ্র জীবন দিয়ে আমি এই শিক্ষায় লাভ করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here