অকর্মণ্য ব্যক্তিরা গীতা পড়েন- এই ভাবনার মানুষেরা লেখাটি পড়ুন

0
774

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- ভগবদগীতা এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সারসত্য অনেকেই অনুধাবন করতে না পেরে একে ছোট করেন। হিন্দু ধর্মের ও অনেক মানুষ গীতা পাঠরত ব্যক্তিকে উপহাস করেন। অনেকেই মনে করেন যে গীতা তারাই পড়েন, যাদের কোনো কাজ নেই! শুধুমাত্র তাদের জন্যই বিশেষ ভাবে এই লেখাটি লেখা যারা মনে করেন- গীতা অকর্মণ্য ও অলস দের পাঠ্য! একদিন চেন্নাইয়ের সাগর ত্বটে বসেছিলেন একজন ভদ্রলোক। তার পোষাক দেখে ই বোঝা যায় তিনি বাঙালি। পরণে ছিল তার ধুতি ও শাল। সাগরের তটের কাছে বসে সেই ভদ্রলোক ভগবদগীতা‌র দর্শনকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করছিলেন। হয়ত সাগরের সাথে ভগবত গীতার সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছিলেন। এ তো শুধু কোনো গ্রন্থ না, এটি এক বিরাট দর্শন। বাঙালি ভদ্রলোককে ভগবত গীতা পড়তে দেখে একটি ছেলে এসে তাকে বললেন- “আজ বিজ্ঞানের যুগে এখন ও আপনি এমন একটি বই পড়ছেন? দেখুন এই মুহূর্তে আমরা চাঁদে পৌঁছে গেছি। আর আপনি এই গীতা আর রামায়ণ এর মধ্যেই আটকে আছেন! “ভদ্রলোক ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি গীতার ব্যাপারে কী জানো?” ছেলেটি গীতার ব্যাপারে সেভাবে কিছুই জানেন না। তাই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে ছেলেটি উত্তেজিত হয়ে বললেন- “ওই সবকিছু ছেড়ে দিন। আমি বিক্রম সারাভাই গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন ছাত্র। আমি একজন বিজ্ঞানী। এই গীতা নিরর্থক। “এই কথা শুনে ঐ ভদ্রলোক শুধুই হাসতে থাকলেন মুখে কিছুই বললেন না। এরকম সময় সেখানে দুটি বিশাল আকৃতির গাড়ি এলো। একটা গাড়ির মধ্যে থেকে কিছু কালো কমান্ডো ও অপর গাড়ি থেকে সৈনিক বের হয়ে এলো। সৈনিকটি গাড়ির পিছন দিকের দরজা খুলে দিল ভদ্রলোক গাড়ির মধ্যে গিয়ে বসলেন। ভদ্রলোকের এইরকম আচরণ দেখে তো ছেলেটি অবাক হয়েগেলো‌। ছেলেটি বুঝে উঠতেই পারলেন না ভদ্রলোকের পরিচয়? গাড়ি ছাড়ার আগে ছেলেটির দৌড়ে গিয়ে ওই ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলেন- “স্যার… স্যার… কে আপনি?” ভদ্রলোক সেদিন উত্তরে যা বলেছিলেন তা শুনে সেই ছেলেটির চরিত্রের আমূল বদল ঘটেছিল। ভদ্রলোক ছেলেটির প্রশ্নের উত্তরে তিনটি শব্দ বলেছিলেন, ছেলেটির অবাক হওয়ার জন্য যা ছিল যথেষ্ট। ভদ্রলোক বললেন-“আমিই বিক্রম সারা ভাই। “এই কথা শুনে ছেলেটি ভীষণ রকম চমকে গেলেন। এরপর সেই দিনের সেই ছেলেটি ভগবদ্গীতা পড়লেন। ভগবদ্গীতা পড়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে ভগবদ্গীতা আসলে পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞান ও দর্শনের আধার। ভগবদ্গীতা পড়েই ছেলেটি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি আজীবন মাংস খাবেন না। এই ছেলেটির পরিচয় হলো ডঃ আব্দুল কালাম। আব্দুল কালাম এর পরিচয় প্রতিটি মানুষই খুব ভালো করে জানেন। আশা করি বুঝতেই পারছেন গীতা যারা পড়েন তারা অলস ও অকর্মণ্য হন না! তাদের বোধের জগৎ ও জ্ঞানের জগৎ ব্যাপ্তি সাধারণের চাইতে অনেক বেশি। গীতা পড়ে তার অর্থ বুঝতে সক্ষম হন, গীতার ব্যাখ্যা যারা করতে পারেন, তিনি যে ধর্মেরই হন, যে গোত্রেরই হন তিনি প্রণম্য। কারণ তিনি একজন মহান দার্শনিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here