করোনার গ্রাসে পৃথিবী! ঈশ্বর কোথায়! কেন তিনি কৃপা করছেন না ? এই প্রশ্ন আপনার মনেও ঘুরছে? অবশ্যই পড়ুন

0
1089

বহরমপুর থেকে সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- গোটা বিশ্ব করোনা আতঙ্কে ভুগছে। দিনকে দিন করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের মেয়াদ ছিলো ৩ রা মে। তৃতীয় দফায় সেই লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে হলো ১৭ মে। গোটা দেশ ভাগ হয়ে গেছে তিনটি জোনে। রেড, গ্রীন,অরেঞ্জ!সংক্রমণের ভিত্তিতেই এই বিভাজন। রেড মানে অধিক‌ সংক্রমণ! অরেঞ্জ মানে মাঝারি!আর গ্রীন বিপদ মুক্ত! করোনা‌ সংক্রমণ নেই বিগত একুশ দিন ধরে যে যে জেলায় সেটাই গ্রীন জোন!
বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে লক্ষাধিক। কত মানুষ করোনার কবলে পড়ে মারা যাচ্ছেন। কত মানুষ অসহায়ের মতো বরণ করছেন মৃত্যু। এখন এই মুহূর্তে আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরছে কেন সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাতরডাক শুনছেন না? কেন তিনি আমাদের কৃপা করছেন না? কেন তিনি আমাদের এই সংকটময় অবস্থা থেকে রক্ষা করছেন না? আমাদের মন থেকে বিশ্বাস ক্রমশ উঠে যাচ্ছে তার প্রতি‌। এখন আপনি বলুন তো আপনি কি সত্যিই এমন কোনো কাজ করেছেন যাতে সৃষ্টিকর্তার মনে হয় আপনার জীবনটা এই সৃষ্টির জন্য মঙ্গল? আপনি কি সত্যি এমন কোন সহৃদয় তার পরিচয় দিয়েছেন যাতে সৃষ্টিকর্তার মনে হয়েছে তার সৃষ্টির জন্য আপনার জীবন টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

আসলে আমরা প্রত্যেকেই কর্ম অনুযায়ী ফল লাভ করে থাকি। হ্যাঁ কর্ম। আমি আপনাদের এই মুহূর্তে একটি প্রশ্ন করি। সেটা একটু ভাবুন। তারপর ঈশ্বর অথবা আল্লাহর দিকে অভিযোগ করবেন!
আপনি কি আপনার সকল দায়িত্ব পালন করেছেন? আপনার পিতা- মাতা, ভাই বোন,স্বামী- স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি? আপনি কি সবসময় বিপদগ্রস্থ মানুষ কে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন? আপনি কি অহং শূণ্য হয়ে দান করেছেন? যারা আপনার ওপর নির্ভরশীল সেই সকল অসহায় প্রাণী (পথের কুকুর,বিড়াল ও অনান্য পশু) দের জন্য আপনি কী কখনো ভেবেছেন? এই দীর্ঘ ‌লকডাউনে ও কি একবার তাদের দিকে একমুঠো খাবার ছড়িয়ে দিয়েছেন? খোঁজ নিয়েছেন কি আপনার পাশে থাকা কোনো দীন দরিদ্র পরিবারের মানুষের? আপনি কি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেন আপনার দ্বারা কখনো কোনো নির্দোষ এর চোখে জল ঝরেনি? আপনার উপার্জন কি সৎ পথে? এবং সর্বোপরি আপনার মানসিকতা কি উদার? আপনি কি কখনো নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরের ক্ষতি চাননি? মানসিক ভাবেও কি আপনি কখনো অন্যের ক্ষতি কল্পনা করেননি? অন্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত হন নি?- আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন। নিজেকে জানুন। আপনি কি চিরকাল ধর্ম পথে থেকেছেন? সত্য ও সৎ ই কি আপনার চরিত্র?- যদি এর উত্তর হয় না, তবে যে আপনি চিরকাল ওপরওয়ালা কে অস্বীকার করে‌ নানা ভুল কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, যে আপনি এতকাল ঈশ্বর এর অস্তিত্ব তে ই প্রশ্ন তুলেছেন সেই আপনি আজ ঈশ্বরের কৃপা পাওয়ার আশায় বসে আছেন!এর থেকে বড় লীলা আর কী ই বা হতে পারে! এই মহাসংকট এক চরম নাস্তিকের মধ্যেও ঈশ্বর চিন্তার জাগরণ ঘটালো।এর থেকে সত্য আর কী হতে পারে?
আর যিনি ঈশ্বরের পথে আজীবন চলেছেন। যিনি আজীবন দীন,দুঃখী,ও অসহায় প্রাণীদের সাহায্য করে এসেছেন অহং শূণ্য হয়ে, তিনি আজ পরম নিশ্চিন্তে আছেন। হ্যাঁ কারণ তিনি জানেন সব ই হয় কোনো একজনের অঙ্গুলি হেলনে।সেই একজন ই হলেন ঈশ্বর,আল্লা,যীশু।
যিনি ধর্ম কে মানেন (সে ধর্ম সনাতন হোক অথবা ইসলাম অথবা খ্রিস্টান অথবা বৌদ্ধ অথবা জৈন ) এবং এই ধর্ম কে মেনেই যিনি সৎ ভাবে জীবন যাপন করেন তিনি কখনোই অভিযোগ করবেন না। কারণ তিনি নিজের কর্ম টুকুই করে যাবেন নীরবে। ঘরে বসেই তিনি নামাজ পড়বেন অথবা করবেন প্রার্থনা‌। লকডাউন বিধি মেনে চলবেন সর্বতোভাবে এবং অবশ্যই ঘরের মধ্যে থেকেই চেষ্টা করবেন অপরদের(দীন,দুঃখী মানুষ ও অসহায় প্রাণী) সহায়তা করতে। প্রকৃতপক্ষে যিনি ধর্ম কে মানেন ও জানেন তার চরিত্র ও মন উভয় ই হবে শান্ত। তাই সেই মানুষটি সকল দায়িত্ব কর্তব্য পালন করবেন নীরবে এবং অবশ্যই কারোর প্রতিই তার কোনো অভিযোগ থাকবেনা। কেন একজন ধার্মিক সৎ মানুষের মনে অভিযোগ থাকবেনা? এ প্রশ্নের উত্তর দেবো পরবর্তী লেখায়। ততদিন সাথে থাকুন। দয়া করে লকডাউনকে মেনে চলুন। ঘরে থেকেই ধর্ম পালন করুন।সামাজিক দায়িত্ব পালন করুন।সামাজিক ভাবে দূরত্ব বজায় রাখলেও ফোনের মাধ্যমে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন পাড়া প্রতিবেশীর সাথে।তাদের সমস্যা গুলো ও জানুন ,শুনুন ও সহায়তা করুন। হাত বাড়িয়ে দিন অবলা অসহায় পশুদের দিকেও। পালন করুন একজন নাগরিকের দায়িত্ব। মনে রাখবেন একজন সুনাগরিক তিনি ই যিনি নিজের সকল দায়িত্ব কেই পালন করেন। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের যাবতীয় নির্দেশিকা মেনে চলুন। অবশ্য ই ঘরে থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here