অনলাইনে মদ বিক্রির গুজব, লকডাউন ভেঙে মদ বিক্রি রুখল পুলিশ, কিন্তু আজ দুর্গাপুরে দেদার বিকিয়েছে মদ, বিদেশী মদের দোকান থেকে

0
844

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান ও দুর্গাপুরঃ- লকডাউনের জেরে মদ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় রীতিমত বিপাকে পড়েছেন মদ্যপায়ীরা। আর তার জেরেই চলছে চোরা গোপ্তা মদ বিক্রি। রীতিমত মদের সন্ধানে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন মদ্যপায়ীরা। লকডাউন কিংবা করোনা আতংককে রীতিমত তোয়াক্কা না করেই এই মদ্যপায়ীদের নিয়ে এখন রীতিমত সমস্যায় পড়েছেন খোদ পুলিশও। সম্প্রতি বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নিশীথ মালিক গঞ্জ এবং হাটগোবিন্দপুর এলাকায় গোপনে মদ বিক্রির অভিযোগ পেয়ে দুটি বৈধ মদের দোকান বন্ধও করে দেন। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়াতে শুরু করে সোমবার থেকে অনলাইনে মদ বিক্রি করবে বৈধ মদের দোকানগুলি। ফলে রীতিমত হুড়োহুড়ি পড়ে যায় অনলাইনেও। সোমবার সকালে বর্ধমান শহরের তিনকোণিয়া এলাকায় একটি বৈধ মদের দোকানে সকাল থেকেই শুরু হয় অবৈধভাবে মদ বিক্রি। সাটারের ফাঁক দিয়েই চলে দেদার মদ বিক্রি। একদিকে, যাঁরা অনলাইনে বুকিং করেছেন তাঁদের লাইন, অন্যদিকে যাঁরা মদ বিক্রির খবর পেয়েছেন তাঁরাও এসে হাজির হন মদ কেনার লাইনে। আর তখনই সমস্যা সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই যাঁরা অনলাইনে মদের অর্ডার দিয়েছিলেন তাঁরা চান তাঁদের আগে দিতে হবে, অন্যদিকে সকাল ৯টা থেকে যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা চান তাঁদের আগে দিতে হবে। আর এনিয়ে বচসাও শুরু হয়। এরপরই স্থানীয় এক বাসিন্দা পুলিশে খবর দিলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন। আটক করা হয় ৩ জনকেও। পুলিশের ভয়ে যে যেদিকে পারেন ছুটে পালান। পুলিশ আসার খবর পেয়েই দোকানদার ভেতর থেকে সাটার নামিয়ে দেন। বারবার পুলিশ তাঁদের ডাকলেও কোনো সাড়া না দেওয়ায় মালিকপক্ষের দুটি বাইককে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন ভেঙে সরকার নির্দেশ না মেনে মদ বিক্রির ঘটনায় দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে নিদিষ্ট ধারায় কেস করা হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার জংশন মল এর সামনে একটি অফ সাপ / বিদেশী মদের দোকান থেকে আজ দেদার বিকিয়েছে মদ। মানুষজন লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে মদ কিনেছেন সেখান থেকে। সরকারি নির্দেশ ছাড়াই কি করে এইভাবে প্রকাশ্যে লাইন দিয়ে মদ বিক্রি করা হলো তা নিয়ে এখন জল্পনা শহরজুড়ে। শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন কি করছিল যখন এইখানে এইভাবে লাইন দিয়ে মানুষজন সরকারি নির্দেশ ছাড়াই মদ কিনছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here