জাতীয় স্তরে যোগা প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে সোনামুখীর নাম উজ্জ্বল করলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার

0
377

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- জাতীয় স্তরে যোগা প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে বাঁকুড়া জেলার পাশাপাশি সোনামুখীর নাম উজ্জ্বল করলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার। নাম শ্যামসুন্দর গোলদার তার বাড়ি সোনামুখী শহরের শ্যামবাজারে। জাতীয় স্তরে ফেডারেশন যোগা স্পোর্টস কাপ ২০২০ প্রতিযোগিতায় সোনা জিতলেন তিনি। ভারত সরকার অনুমোদিত যোগা ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সিনিয়র পুরুষ বিভাগে শতাধিক প্রতিযোগীকে হারিয়ে দেশের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামসুন্দর গোলদার। শ্যামসুন্দর গোলদারের এই সাফল্য অতটা সহজ ছিলো না। ডিউটি শেষ করে দাদার মুদি দোকানে দাদার সাথে হাত লাগাতে হয়। পাশাপাশি বাড়ির সবজি বাজার করা থেকে জল তোলা সবকিছুই তাকে করতে হয়। আর এতসবের মধ্যেও নিজের প্র্যাকটিস চালিয়ে গিয়ে সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে সে।

পাশাপাশি সোনামুখীর নাম উজ্জ্বল করেছে সোনামুখী শহরের সিদ্ধেশ্বর তলার এক গৃহবধূ নাম পল্লবী সেন। এই প্রতিযোগিতায় তিনি ব্রঞ্চ পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। তারও সংসার সামনে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা পাশাপাশি ছেলেকে পড়াশোনা করানো রান্নাবান্না করা সবকিছুই থাকে নিজের হাতে করতে হয়। তার এই সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

গত ১৫ তারিখ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হয়েছিল। গত রবিবার বিকেলে তার ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা হতেই সোনামুখীর এই দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সোনামুখী থানার আধিকারিক চয়নকুমার ঘোষ।

সোনামুখীর যোগ প্রশিক্ষক নিরব দে বলেন, এই প্রতিযোগিতাটি জেলা থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতাটি তামিলনাড়ুতে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এবছর বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির জন্য তা হয়নি। অনলাইনে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সোনামুখীর শ্যামসুন্দর ও পল্লবী জাতীয় স্তর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে অংশ নেওয়ার জন্য ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই সোনামুখী শহরবাসী হিসেবে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।

শ্যামসুন্দর গোলদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই যোগ অনুশীলন করে আসছি বর্তমানে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরির ফাঁকে প্রতিদিন সকালে নিয়মমাফিক অনুশীলন করি। তবে আশা করেছিলাম প্রতিযোগিতায় কোন একটা পদক পাব একেবারে স্বর্ণপদক মিলবে তা আশা করিনি। পল্লবী ঘর সেন বলেন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে সব ধরনের প্রচেষ্টা আগামীদিনে চালিয়ে যাব। বাঁকুড়া জেলার অ্যাডিশনাল এসপি গণেশ বিশ্বাস বলেন, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। আগামী দিনে শ্যামসুন্দর বলদার বাঁকুড়ার নাম উজ্জ্বল করুক এই কামনাই করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here