লকডাউনঃ বারুদের স্তুপের ওপর শিল্পাঞ্চল, শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে শীত ঘুমে শ্রমিক সংগঠন ও জেলা প্রশাসন

0
1197

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারাদেশে চলছে লকডাউন। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন মানা হচ্ছে কঠোরভাবে। তারপরও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দুর্গাপুর আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারি কারখানা রয়েছে। সেই সব বেসরকারি কারখানাগুলোতে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন দৈনন্দিন। কিন্তু গত মাসের ২৩ তারিখের পর থেকে বদলে গিয়েছে তাদের জীবনযাত্রা। দেশের প্রধানমন্ত্রী লকডাউনের শুরুতেই অনুরোধ করেছিলেন সমস্ত শিল্পপতিদের কাছে তারা যেন তাদের কর্মীদের সঠিক সময়ে বেতন দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই অনুরোধকে সম্মান দিয়ে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা ও কারখানা তাদের শ্রমিকদের অল্পবিস্তর বেতন হাতে দিয়েছেন যাতে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি কারখানা তার মধ্যে প্রায় ৩৬ টি কারখানা এখনো পর্যন্ত তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেয়নি। শ্রমিক অসন্তোষ হচ্ছে প্রতিটি কারখানার গেটে। লকডাউন এর নিয়ম কে তোয়াক্কা না করে ভুখা পেটের এই শ্রমিকেরা বাধ্য হচ্ছেন কারখানা গেটে বিক্ষোভ দেখাতে। পুলিশ প্রশাসন শিল্পপতির পাশে দাঁড়াচ্ছে চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে। প্রায় প্রতিটি কারখানাতেই শ্রমিকদেরকে অল্পবিস্তর অ্যাডভান্স এর নামে কিছু টাকা দিয়ে শিল্পপতিরা শ্রমিক অসন্তোষ কে শান্ত করার মরিয়া চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই শিল্পতালুক দুর্গাপুরে বিক্ষোভের জেরে জেরবার হয়েছে শিল্প জীবন। কয়েক হাজার ঠিকা শ্রমিক ও অসংগঠিত শ্রমিক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন রোজই বিভিন্ন কারখানার সদর গেটের সামনে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে অবিলম্বে তাদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তারা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এত কিছু হওয়ার পরও দুর্গাপুরের যে দুটি মূল শ্রমিক সংগঠন রয়েছে যেমন আই.এন.টি.টি.ইউ.সি তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত ও সি.পি.আই.এম সমর্থিত সি.আই.টি.ইউ ট্রেড ইউনিয়ন এখন শীত ঘুমে রয়েছেন বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় তৃণমূল সমর্থিত আই.এন.টি.টি.ইউ.সি শ্রমিক সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এখনো পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন তারা পাচ্ছেন না। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ট্রেড ইউনিয়ন আইএনটিটিইউসি দুটি গোষ্ঠী শিল্পতালুকে এখন সক্রিয়। একটি প্রভাত চ্যাটার্জির গোষ্ঠীর এবং অন্যটি বিস্বনাথ পারিয়াল এর গোষ্ঠী ও বলে জানা গেছে। এই দুই গোষ্ঠীর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিক থেকে কারখানার মালিকরা। সি.আই.টি.ইউ শ্রমিক সংগঠন টি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে তাদের কোনো নেতা নেত্রীকেই এখন শ্রমিকদের কথা বলতে কারখানার গেটে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এপ্রিলের লকডাউনের বেতন কি আদৌ মিলবে এই নিয়েও বেশ দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন শ্রমিকেরা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী বারবার আবেদন করেছিলেন শিল্পপতিদের কে যাতে শ্রমিকদের বেতন না কেটে তাদের হাতে সময় মতন দিয়ে দিতে কিন্তু শিল্পপতিরা তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় নিজেদের মোতাবিক চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকাণ্ড। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এই শিল্পপতিদের কে বার্তা দেওয়ার যে অবিলম্বে তারা যেন তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে জেলা প্রশাসন নিশ্চুপ বলে শ্রমিকদের অভিযোগ। এদিকে এমত অবস্থায় পুরো শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ক্ষোভের আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় তা বিস্ফোরণ হওয়ার অপেক্ষায়। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল তাই এখন বারুদের স্তুপ ওপর আছে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here