কৃষি বিকাশ শিল্পকেন্দ্রে চাকরি দেওয়ার নামে এক যুবকের দেড় লক্ষাধিক টাকা প্রতারিত

0
2800

সংবাদদাতা, বর্ধমান:- কৃষি বিকাশ শিল্পকেন্দ্র নামে একটি সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে এক যুবকের কাছ থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কথা গলসি থানায় জানান প্রতারিত। তাঁর অভিযোগ, থানা কোনও ব্যবস্থানেয়নি। এসপিকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি সিজেএম আদালতে মামলা করেন। যুবকের আইনজীবী পীযূষরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আস্থা অর্জনের জন্য রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, রাজ্য কৃষি দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরের চিঠি দেখানো হয়। সংস্থাটি খুবশীঘ্রই কেন্দ্র অধিগ্রহণ করছে বলে জানানো হয়। সংস্থার কর্মীদের কেন্দ্রীয় সরকারেরকর্মীর মর্যাদা দেওয়া হবে বলে প্রচার করা হয়। সংস্থার নাম করে  বহু মানুষকে ঠকানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিজেএমআদালতে মামলা করা হয়। সিজেএম কেস রুজু করে তদন্তের জন্য গলসি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। সমস্ত চিঠির কপি আবেদনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গলসি থানার এক অফিসারবলেন, এ ধরণের অভিযোগ জানাতে কেউ থানায় আসেনি। মামলা সাজানোর জন্য এসব বলা হয়।আদালতের নির্দেশ থানায় এখনও পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশ খতিয়ে দেখে আইনমাফিকব্যবস্থা নেওয়া হবে।     আদালতে গলসি থানার চন্দনপুরের শেখ আব্দুল হক জানিয়েছেন, তিনি চাষ ও ছোটখাটো ব্যাবসাকরেন। তাঁর সঙ্গে গলসি থানারই বড়দিঘির এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। সে তাঁকে সরকারিচাকরি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। তাঁকে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তিনি অবশ্য প্রথমে এনিয়ে আগ্রহ দেখান নি। বারবার তাঁকে কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রেচাকরি করে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের চিঠিদেখানো হয় তাঁকে। এরপর তিনি চাকরির প্রস্তাবে রাজি হন। তাঁর ভোটার কার্ড, আধারকার্ড ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র নেওয়া হয়। তাঁকে কলকাতা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ও অন্যান্য শহরের বিভিন্ন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। চাকরির জন্য তাঁর কাছ থেকে২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। কয়েক দফায় তিনি ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা দেন। এরপর তাঁকেকলকাতায় কৃষি দপ্তরের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২-৩ জনের সঙ্গে কথা বলানো হয়তাঁকে। কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি নিয়োগপত্র দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু,তাঁর চাকরি হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি টাকা ফেরত চান। যদিও তাঁকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।উল্টে তাঁর কাছে চাকরির জন্য আরও টাকা দাবি করা হয়। এতে তাঁর সন্দেহ হয়। বিভিন্নজায়গায় খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর মতো আরও অনেককে এভাবে চাকরি দেওয়ারনাম করে ঠকানো হয়েছে। আস্থা অর্জনের জন্য যেসব চিঠিপত্র দেখানো হচ্ছে সেগুলিতাঁর জাল বলে মনে হয়। কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি টাকা নেওয়ার ব্যাপারে স্ট্যাম্পপেপারে লিখেও দেয়। সংস্থার এক কর্তা বলেন, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্নমামলায় আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এনিয়ে দিল্লিতে বহুবার দরবার করা হয়েছে। কিছুদিনআগেই দিল্লিতে আদালতের বিভিন্ন রায়ের কপি ও সংস্থার কাজকের্মর বিষয়ে নথিপত্র জমাদেওয়া হয়েছে। সংস্থার নাম করে অনেকেই বেকার ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে টাকা তুলছে। এনিয়েসংস্থার তরফেও বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে আইনমাফিকব্যবস্থা নেবে। এরসঙ্গে সংস্থার কোনও সম্পর্ক নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here